রবিবার

১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

পাঁচ হলুদ কার্ডের পরও নিষেধাজ্ঞামুক্ত মেসি, কীভাবে?

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:৩৩

শেয়ার

পাঁচ হলুদ কার্ডের পরও নিষেধাজ্ঞামুক্ত মেসি, কীভাবে?
ছবি সংগৃহীত

সাধারণত কোনো লিগে পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখলে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয় লিওনেল মেসিকে। তবে রবিবার নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে কোনো বাধা নেই আর্জেন্টাইন তারকার। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) তুলনামূলক কম পরিচিত একটি নিয়মের কারণে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়েছেন তিনি। এই নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্টসংখ্যক ম্যাচ টানা শৃঙ্খলাভঙ্গ ছাড়া খেলতে পারলে একজন খেলোয়াড়ের মোট হলুদ কার্ডের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়।

এমএলএসের গুড বিহেভিয়ার ইনসেনটিভ কী?

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) এফসি সিনসিনাটির বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে ২০২৬ এমএলএস মৌসুমে নিজের পঞ্চম হলুদ কার্ড দেখেন মেসি। ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে সিনসিনাটি ডিফেন্ডার স্যামুয়েল গিদির সঙ্গে সংঘর্ষের একটি ঘটনার পর রেফারি আরমান্দো ভিয়ারিয়ালের কাছে গিয়ে প্রতিবাদ জানান তিনি। এ ঘটনায় তাকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।

এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, পাঁচটি হলুদ কার্ড পেলে সাধারণত ২৫০ ডলার জরিমানা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেতে হয়। এই নিয়ম কার্যকর হলে আগামী রবিবার নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারতেন না মেসি।

তবে লিগের গুড বিহেভিয়ার ইনসেনটিভ নিয়মের কারণে সেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়েছেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় টানা পাঁচ ম্যাচে হলুদ কার্ড, লাল কার্ড কিংবা অতিরিক্ত কোনো শাস্তি ছাড়া খেলতে পারলে তার মোট হলুদ কার্ডের সংখ্যা থেকে একটি কমিয়ে দেওয়া হয়।

চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে এই শর্ত পূরণ করে দুটি ধারাবাহিকতার সুবিধা পেয়েছেন মেসি। ফলে তার সক্রিয় হলুদ কার্ডের সংখ্যা পাঁচ থেকে কমে তিনে দাঁড়িয়েছে। এ কারণেই ইন্টার মায়ামির পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন তিনি।

লিগের আনুষ্ঠানিক কম্পিটিশন গাইডলাইনস অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় টানা পাঁচটি ম্যাচে হলুদ কার্ড, লাল কার্ড কিংবা অতিরিক্ত কোনো শাস্তি ছাড়া অংশ নিলে তার মোট হলুদ কার্ডের সংখ্যা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি কমিয়ে দেওয়া হয়।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এই সুবিধার মাধ্যমে কোনো খেলোয়াড়ের হলুদ কার্ডের সংখ্যা শূন্যের নিচে নামবে না। এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমে একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ তিনবার এই সুবিধা নিতে পারবেন। টানা পাঁচ ম্যাচের শর্ত পূরণ হওয়ার পরই কার্ড কমানোর বিষয়টি কার্যকর হয়।

যেভাবে মেসির হলুদ কার্ডের সংখ্যা কমে তিনে

২০২৬ এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমে মেসির শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কীভাবে এই নিয়মের কারণে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়েছেন তিনি। চলতি মৌসুমে পাঁচবার হলুদ কার্ড দেখলেও টানা পাঁচ ম্যাচ করে শৃঙ্খলাভঙ্গ ছাড়া খেলার দুটি ধারাবাহিকতা পূরণ করায় তার কার্ডের সংখ্যা দুই দফায় কমানো হয়েছে।

১২ এপ্রিল ২০২৬, কলোরাডো র‍্যাপিডসের বিপক্ষে ম্যাচে মৌসুমে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন মেসি। ম্যাচটি ছিল মৌসুমের অষ্টম ম্যাচ।

৩ মে অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। এটি ছিল ম্যাচডে ১১। ফলে তার মোট কার্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় দুইয়ে।

অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে ম্যাচের পর টানা পাঁচ ম্যাচে কোনো হলুদ কার্ড, লাল কার্ড কিংবা অতিরিক্ত শাস্তি ছাড়াই খেলেন মেসি। ফলে গুড বিহেভিয়ার ইনসেনটিভের প্রথম সুবিধা পান তিনি। এতে তার কার্ডের সংখ্যা দুই থেকে কমে একে নেমে আসে।

২১ জুন ন্যাশভিল এসসির বিপক্ষে ম্যাচডে ২০-তে আবারও হলুদ কার্ড দেখেন মেসি। এতে তার কার্ডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় দুইয়ে।

এরপর ন্যাশভিলের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে টানা ১০ ম্যাচ কোনো হলুদ কার্ড, লাল কার্ড কিংবা অতিরিক্ত শাস্তি ছাড়াই খেলেন তিনি। এই ধারাবাহিকতায় দুবার গুড বিহেভিয়ার ইনসেনটিভের সুবিধা পান মেসি। ফলে তার কার্ডের সংখ্যা দুই থেকে কমে শূন্যে নেমে আসে।

১৩ সেপ্টেম্বর আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচডে ৩১-এ আবারও হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টাইন তারকা। এতে তার কার্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় একে।

সবশেষ ২৮ অক্টোবর এফসি সিনসিনাটির বিপক্ষে ম্যাচে পঞ্চম হলুদ কার্ড দেখেন মেসি। ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে সিনসিনাটি ডিফেন্ডার স্যামুয়েল গিদির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার পর রেফারির কাছে প্রতিবাদ জানালে তাকে এই কার্ড দেখানো হয়। এতে তার সক্রিয় কার্ডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় তিনে।

দুই দফায় কার্ড কমে যাওয়ার কারণেই সিনসিনাটির বিপক্ষে পঞ্চম হলুদ কার্ড দেখেও নিষেধাজ্ঞার সীমায় পৌঁছাননি মেসি। মৌসুমে পাঁচবার হলুদ কার্ড দেখলেও নিয়ম অনুযায়ী তার বর্তমান কার্ডের সংখ্যা তিন।

ইন্টার মায়ামির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ মেসির খেলা?

রবিবার নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে নামবে ইন্টার মায়ামি। দুই দলের মধ্যে পয়েন্টের ব্যবধান মাত্র দুই। ফলে ম্যাচটির ফল ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

কিলি গঞ্জালেসের দলের বিপক্ষে জয় পেলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই প্রতিপক্ষকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে ইন্টার মায়ামি। চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল দুই দলের প্রথম দেখায় ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। ইন্টার মায়ামির ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে গোল করেছিলেন কার্লেস গিল ও জার্মান বেরতেরামে।

নিয়মিত মৌসুমের শেষ দিকে এসে রবিবারের ম্যাচটি তাই দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। পয়েন্ট তালিকায় ভালো অবস্থানে থেকে মৌসুম শেষ করতে পারলে এমএলএস কাপের নকআউট পর্বে ভালো সিডিং পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। দ্বিতীয়বারের মতো ইন্টার মায়ামিকে এমএলএস কাপ জেতানোর লক্ষ্যে থাকা মেসির জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

চলতি মৌসুমে দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। ২৯ ম্যাচে ২৫ গোল করে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়েও এগিয়ে আছেন মেসি।

গুড বিহেভিয়ার ইনসেনটিভের নিয়ম কার্যকর না হলে সিনসিনাটির বিপক্ষে পঞ্চম হলুদ কার্ড দেখার পর নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হতো তাকে। তবে এই নিয়মের সুবিধায় সেই শাস্তি এড়িয়েছেন তিনি। ফলে ইস্টার্ন কনফারেন্সের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে যাওয়া ম্যাচে ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নামতে আর কোনো বাধা নেই মেসির।