বুধবার

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

সাদমানের দৃঢ়তায় স্বস্তিতে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৪০

শেয়ার

সাদমানের দৃঢ়তায় স্বস্তিতে বাংলাদেশ
ছবি সংগৃহীত

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ইনিংস সামাল দিয়েছেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। তার অপরাজিত ৭৯ রানের ইনিংসে ভর করে চা-বিরতিতে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৭৭ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। চতুর্থ উইকেটে তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে সাদমানের অবিচ্ছিন্ন ৬৭ রানের জুটিতে স্বস্তি ফিরেছে বাংলাদেশ শিবিরে।

১৬৭ বলের ইনিংসে পাঁচটি চার মেরেছেন সাদমান। অন্য প্রান্তে হৃদয় ৭৪ বলে ৩৬ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। প্রথম দিনের তৃতীয় সেশনের আগে এই জুটিই বাংলাদেশের ভরসা হয়ে উঠেছে।

সাদমানের অর্ধশতক, হৃদয়ের ইতিবাচক ব্যাটিং

সতর্ক ব্যাটিংয়ে সেশন শুরু করে বাংলাদেশ। ধীরে ধীরে নিজের অর্ধশতকের দিকে এগিয়ে যান সাদমান। জেইডেন সিলসের বলে এক রান নিয়ে ৩৫তম ওভারে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন তিনি। তবে এর কিছুক্ষণ পরই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জোমেল ওয়ারিকানের বলে সুইপ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

বল প্যাডে লাগার পর আম্পায়ার প্রথমে শান্তকে আউট দেননি। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আবেদনের পর পুনর্বিবেচনায় দেখা যায়, বলটি মিডল ও লেগ স্টাম্পে আঘাত করত। ফলে ১৯ রানেই ফিরতে হয় বাংলাদেশ অধিনায়ককে।

শান্তের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে ইতিবাচক ব্যাটিং শুরু করেন হৃদয়। শামার জোসেফের বলে সহজ চার মেরে রানের খাতা খোলেন তিনি। পরে একই বোলারের বলে দারুণ পুল শটে আরেকটি বাউন্ডারি আদায় করেন এই ব্যাটার।

অন্য প্রান্তে ধৈর্য ধরে রান তুলতে থাকেন সাদমান। নাগালে পাওয়া বলেই আক্রমণাত্মক হয়েছেন তিনি। জাস্টিন গ্রিভসের তুলনামূলক কম গতির বল থেকেও সুযোগ বুঝে রান বের করেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

শুরুতে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। দিনের প্রথম আধা ঘণ্টায় রান তুলতে সতর্ক থাকতে হয় স্বাগতিকদের। জেইডেন সিলস শুরু থেকেই তানজিদ হাসানকে চাপে রাখেন। অফ স্টাম্পের বাইরের দিকে বল করে তাকে খেলতে বাধ্য করেন।

শেষ পর্যন্ত সপ্তম ওভারে বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে জাস্টিন গ্রিভসের হাতে ক্যাচ দেন তানজিদ। ৭ রান করে ফেরেন তিনি।

তানজিদের বিদায়ের পর ইনিংসের হাল ধরেন সাদমান। শুরুতে বোলারদের চাপ সামলে ধীরে ধীরে বাউন্ডারি আদায় করতে থাকেন তিনি। শরীরের কাছাকাছি পাওয়া বল কাজে লাগানোর পাশাপাশি স্কয়ার কাট ও কভার ড্রাইভে রান তোলেন এই ওপেনার।

সাদমানের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৯ রান যোগ করার পর জোমেল ওয়ারিকানের বলে আউট হন মুমিনুল হক। ওভারের দ্বিতীয় বলটি সামনের পায়ে এসে খেলতে গিয়ে মিড-অফে সরাসরি ক্যাচ তুলে দেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান।

প্রথম দুই উইকেট হারানোর পর শান্তের বিদায়ে আরও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে সাদমান ও হৃদয়ের অবিচ্ছিন্ন জুটি স্বাগতিকদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে। চা-বিরতির পর এই জুটি কতটা দীর্ঘ হয়, তার ওপর নির্ভর করবে প্রথম দিনের বাকি সময়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ।