মঙ্গলবার

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২৮ আশ্বিন, ১৪৩৩

জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ড্র বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:২০

আপডেট: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:১১

শেয়ার

জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ড্র বাংলাদেশের
ছবি সংগৃহীত

তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে। চতুর্থ দিনে জয়ের অপেক্ষায় ছিল দলটি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই জয় আর পাওয়া হয়নি। সেদিকুল্লাহ আতালের সেঞ্চুরি ও আফগানিস্তানের শেষ দিকের ব্যাটারদের প্রতিরোধে আবুধাবি টেস্ট ড্র হয়েছে। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে নিজেদের প্রথম টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ।

রেকর্ড ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ ইনিংসে রেকর্ড ১৪২ ওভার ব্যাটিং করে আফগানিস্তান। শেষ দিনে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে ম্যাচ ড্র করে তারা। দিনের শেষ দিকে একাধিক সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।

আতালের প্রতিরোধে আটকে যায় বাংলাদেশ

শেষ দিনের শুরুতে ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে আফগানিস্তান। প্রথম উইকেট পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয় ১৬৩ বল। দিনের শুরুতেই মেহেদী হাসান মিরাজের বলে শর্ট লেগে সেদিকুল্লাহ আতালের ক্যাচ নিতে পারেননি তানজিদ তামিম। তখন আতালের ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল ৩৭ রান।

সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে ওঠেন আতাল। পরে চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদী। তাঁর বদলে ব্যাটিংয়ে নামা ইকরাম আলী খিলকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন আতাল।

দুজনের ৬৬ রানের জুটি ভাঙতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় বাংলাদেশকে। ইকরাম ৩৩ রান করে আউট হন। ইবাদত হোসেনের শর্ট বল ঠিকমতো খেলতে না পারলে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন লিটন দাস। লাঞ্চের ঠিক আগে নেওয়া এই ক্যাচে নতুন করে জয়ের আশা দেখে বাংলাদেশ।

ক্যাচে রেকর্ড গড়লেন লিটন

ইকরামের ক্যাচ নিয়ে ব্যক্তিগত রেকর্ডও গড়েন লিটন। আবুধাবি টেস্টের দুই ইনিংসে ৫৩ ও ১০২ রান এবং আটটি ডিসমিসাল নিয়ে আগের দিনই দক্ষিণ আফ্রিকার ডেনিস লিন্ডসের রেকর্ড ছুঁয়েছিলেন তিনি। লিন্ডসের দুই ইনিংসে রান ছিল যথাক্রমে ৬৯ ও ১৮২, ডিসমিসাল ছিল আটটি। ইকরামের ক্যাচ নিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে যান লিটন।

লাঞ্চের পরও আতালকে ফেরাতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত ৬৬ রানে তাঁর ব্যাট স্টাম্পে লেগে যাওয়ার উপক্রম হলেও বেঁচে যান তিনি। ৭০ রানে থাকতে লিটনের হাতে স্টাম্পিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সেটিও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।

একাধিকবার জীবন পেয়ে শেষ পর্যন্ত ২৭৭ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন আতাল। হাসান মাহমুদকে পুল করে চার মেরে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান তিনি।

মিরাজের জোড়া আঘাতে ফিরেছিল জয়ের আশা

আতালের সেঞ্চুরির পর দ্রুত দুই উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ৬০ বলে চার রান করা ইসমাত আলমকে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচে পরিণত করেন মিরাজ। এরপর আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদীকেও ফেরান তিনি। মিড অনে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৬৯ বলে ৩৬ রান করে ফেরেন শাহিদী।

দ্বিতীয় সেশনে মিরাজের জোড়া আঘাতে আবারও জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয় বাংলাদেশের। তবে তখনো উইকেটে ছিলেন আতাল। ২৯৯ বলে ১০৫ রান নিয়ে চা বিরতিতে যান তিনি।

বিরতির পর ১১তম ওভারে আতালকে ফেরান তাইজুল ইসলাম। শর্ট লেগে ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দেন এই আফগান ওপেনার। ফিল্ডারদের আবেদনে আম্পায়ার আউট ঘোষণা করলে রিভিউ নেন আতাল। তবে রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাটে লেগেছিল।

এর আগে একাধিকবার জীবন পাওয়া আতাল শেষ পর্যন্ত ৩৩২ বলে ১১১ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করে আফগানিস্তানকে ড্রয়ের পথে এগিয়ে দেন তিনি।

শেষ দিকে সুযোগ হাতছাড়া, ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে আফগানিস্তান

আতালকে ফেরানোর পর বাংলাদেশের জয়ের আশা আরও বেড়েছিল। তখনো দিনের খেলা বাকি ছিল ২১ ওভার। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।

আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের ১২২তম ওভারে পরপর দুই বলে রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। ১৩১তম ওভারে ডিপ মিডউইকেটে কাইস আহমেদের ক্যাচ ফেলেন হাসান মাহমুদ। পরে ১৩৭তম ওভারে ইয়ামিন আহমেদজাইকে ফেরান মিরাজ। তবে ততক্ষণে ম্যাচের বাকি সময় কমে এসেছিল।

দিনের শেষ সময়টুকু পার করে দেন কাইস আহমেদ ও জিয়া-উর-রহমান। ৮০ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন কাইস। জিয়া ১২ বল খেলে শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ ইনিংসে ১৪২ ওভার ব্যাটিং করে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে ম্যাচ ড্র করে আফগানিস্তান। জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেও শেষ দুই উইকেট নিতে না পারায় হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।