ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। ৫ রানে দুই উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা। মিচেল স্টার্কের দ্বিতীয় ওভারে পরপর দুই বলে সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হককে ফিরিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার।
ওভারের দ্বিতীয় বলে ১ রান করা সাদমান ব্যাটের ফেস আগেই বন্ধ করতে গিয়ে লিডিং এজে পয়েন্টে ক্যাচ দেন। চলতি সিরিজে একইভাবে তিনবার আউট হলেন তিনি। পরের বলে মুমিনুল হক বোল্ড হয়ে ফেরেন। ক্রিজে আছেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত।
এর আগে নতুন দিনে ৫৫ মিনিট ব্যাটিং করে ১২.৩ ওভারে ৪৫ রান যোগ করে অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত ২১০ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। এতে বাংলাদেশ ১৪৬ রানের লিড পেয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করা ক্যামেরন গ্রিনকে এলবিডব্লিউ করে নিজের সপ্তম উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম। পরে জশ হেজেলউডকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস গুটিয়ে দেন তাইজুল ইসলাম। নাথান লায়ন ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন।
এই ইনিংসে নতুন রেকর্ড গড়েছেন শরিফুল। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টের এক ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের বাইরে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী কোনো বাঁহাতি পেসারের ৭ উইকেট নেওয়ার ঘটনা এর আগে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১৮৮৩ সালে। ১৪৩ বছর পর সেই কীর্তিতে নাম লেখালেন শরিফুল। সফরকারী দেশের তৃতীয় বাঁহাতি পেসার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে ৭ উইকেট নিলেন ২৫ বছর বয়সী এই পেসার।
এর আগে ইংল্যান্ডের টম এমেট ১৮৭৯ সালে ৬৮ রানে এবং রিচার্ড বার্লো ১৮৮৩ সালে ৪০ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন। শরিফুল ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে নতুন সকালে শরিফুলের সপ্তম শিকার হন গ্রিন। দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে তাকে এলবিডব্লিউ করেন শরিফুল। আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। ১০ চার ও একশ পাঁচ বলে ৬৭ রান করেন গ্রিন।
প্রথম দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ১৬৫ রান। তখন ১০১ রানে এগিয়ে ছিল তারা। পরে লিড বাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া ২০০ রান পার করে। একপর্যায়ে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে তাদের সংগ্রহ ছিল ২০৮ রান। নাথান লায়ন ৩১ ও জশ হেজেলউড ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।
ব্যাটারদের ব্যর্থতায় প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে শরিফুলের বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকেও চাপে রাখে সফরকারীরা।
আরও পড়ুন:








