ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিড নেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে পাঠিয়ে দ্বিতীয় ওভারেই সাফল্য পেয়েছে টাইগাররা। জেক ওয়েদারাল্ডকে বোল্ড করে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ।
প্রথম ইনিংসেও ওয়েদারাল্ডকে ফিরিয়েছিলেন হাসান। সেবার ২৩ রানে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়েছিলেন এই অজি ওপেনারকে। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩ বল খেলেই ডাক মেরে ফেরেন তিনি। হাসানের করা বল ব্যাটে লেগে সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করলে ৪ রানেই প্রথম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
এর আগে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই হাসান ও তাইজুল ইসলামকে হারায় সফরকারীরা। জশ হ্যাজলউডের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে হাসান ফেরেন। এরপর হ্যাজলউডের বলেই ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দেন তাইজুল।
তবে এরপর তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে বড় লিডের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রথম সেশনে দুই উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান যোগ করে টাইগাররা।
লাঞ্চের আগে ১২৬তম ওভারে হ্যাজলউডের বলে চার মেরে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২তম ফিফটি তুলে নেন মিরাজ। ১১৭ বলে ৫ চারে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ৩২ রান নিয়ে দিন শুরু করা মিরাজ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে এই ইনিংসে পঞ্চাশের ঘরে পৌঁছান। ড্রেসিংরুম থেকে সতীর্থরাও করতালিতে তাকে অভিনন্দন জানান।
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের আধিপত্য ধরে রাখেন মিরাজ। এর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ১০৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশ এবার শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেখাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।
এরপর ১২৯তম ওভারের প্রথম বলে প্যাট কামিন্সের বাউন্সার তাসকিনের ব্যাটে লেগে বাউন্ডারিতে গেলে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪০০ ছাড়িয়ে যায়। একই সঙ্গে লিডও পেরিয়ে যায় ২০০ রান। পরের বলেই একই জায়গায় তাসকিনকে জীবন দেন স্টিভেন স্মিথ। ক্যাচটি নিতে পারলে টেস্টে সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নিতে পারতেন অজি তারকা।
৮ উইকেটে ৪১৭ রান নিয়ে প্রথম সেশন শেষ করে বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর চতুর্থ বলেই মিরাজকে ফিরিয়ে নিজের ৩০০তম টেস্ট উইকেট পূর্ণ করেন হ্যাজলউড। অজি পেসারের বলে অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে ক্যাচ দেন মিরাজ। ১৫৪ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি।
দিনের বাকি চার উইকেটই শিকার করেন হ্যাজলউড। ইবাদত হোসেনকে ৭ রানে ক্যারির ক্যাচ বানিয়ে নিজের ষষ্ঠ উইকেট পূর্ণ করেন এই অজি পেসার। অন্যদিকে, ২২৮ রানের লিডের পর দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই ওয়েদারাল্ডকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন হাসান মাহমুদ।
আরও পড়ুন:








