দেশে পর্যাপ্ত সুযোগ না পেয়ে ফিটনেস ধরে রাখতে ইংল্যান্ডের মাইনর লিগে খেলছেন আকবর আলী।
২০২০ সাল। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায়। ওই বছর আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। মূলত, আকবর আলীর নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতে টাইগাররা, যা আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রথম শিরোপা জয়।
এর আগে ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেএসপির হয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগে অভিষেক হওয়া এই তরুণ, ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বরে প্রথমবারের মতো জায়গা পান জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে।
কিন্তু এরপর থেকেই যেন দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে গেছেন তিনি পারফরম্যান্স এবং নানা কারণ মিলিয়ে। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় দল টেস্ট খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফরে রয়েছে। এছাড়াও ‘এ’ দল, হাই পারফরম্যান্স বা এইচপি দল, অস্ট্রেলিয়ায় টপ-এন্ড টি-টোয়েন্টি এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ইমার্জিং দলসহ চার-পাঁচটি দল রয়েছে খেলার মধ্যে অথবা, প্রস্তুতিতে। অথচ এসব দলের, প্রায় ১০০ জন ক্রিকেটারের মধ্যে কোথাও জায়গা হয়নি বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়কের। কেন এই অবহেলা? নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর কারণ জানিয়েছেন ক্রীড়া সাংবাদিক আবু সাদাত।
আবু সাদাতের দাবি
সাংবাদিক আবু সাদাত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় জানান, অস্ট্রেলিয়া সফরে দ্বিতীয় উইকেটকিপার হিসেবে অমিত হাসানের চেয়ে আকবর আলী বেশি যোগ্য ছিলেন। কিন্তু তাঁকে কোনো দলেই রাখা হয়নি। তিনি ইনজুরিতেও নেই। বরং সবশেষ ঘরোয়া মৌসুমে তাঁর নেতৃত্বেই রংপুর বিভাগ এনসিএলের টি-টোয়েন্টি এবং চার দিনের ম্যাচ দুটোতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
সাংবাদিক আবু সাদাতের দাবি, আকবর আলীর এই ইচ্ছাকৃত বাদ পড়ার নেপথ্যে সরাসরি জড়িত বর্তমান ক্রিকেটের নীতিনির্ধারক তামিম ইকবাল এবং কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন।
জানা যায়, গত বছর সেপ্টেম্বরে বিসিবি নির্বাচন নিয়ে দোলাচলের সময়, কোয়াবের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে সব ক্রিকেটারকে নির্দিষ্ট একটি স্ট্যাটাস শেয়ার করতে বলা হয়। কিন্তু স্বাধীনচেতা আকবর সেটি দিতে অস্বীকৃতি জানান।
পরবর্তীতে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের, বোর্ডের অধীনে কোনো টুর্নামেন্ট না খেলার যে সিদ্ধান্ত কোয়াব গ্রুপে দেয়া হয়, সেখানেও ঘোর আপত্তি জানান আকবর।
আবু সাদাতের মতে, আকবরের এই স্বাধীন মতামত কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের অহংবোধে আঘাত করে। পরবর্তীতে তামিম ইকবাল অ্যাডহক কমিটির প্রধান হয়ে আসার পর, সেই পুরোনো ক্ষোভ থেকেই আকবরকে সব দল থেকে ছেঁটে ফেলা হয়।
ইংল্যান্ডে খেলতে বাধ্য
দেশে পর্যাপ্ত বিসিবির কোনো দলেই সুযোগ না পেয়ে, অনেকটা মনের ক্ষোভ নিয়েই নিজেকে ফিট রাখতে বর্তমানে ইংল্যান্ডের মাইনর লিগে খেলতে বাধ্য হচ্ছেন এই প্রতিভাবান ক্রিকেটার।
ক্রীড়া বিটের অন্য সাংবাদিকরা এসব তথ্য জানলেও, ব্যক্তিগত হুমকি এবং অফিসে চিঠি যাওয়ার ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না বলে দাবি করেন আবু সাদাত।
তবে, তার এই ভিডিও বার্তার পর তামিম ইকবাল আকবরের ওপর আরও ক্ষিপ্ত হবেন, নাকি চাপে পড়ে তাঁকে পুনরায় সুযোগ দেবেন, তা নিয়ে সন্দিহান এই ক্রীড়া সাংবাদিক।
ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার বানিয়ে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সফলতা এনে দেয়া একজন সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারের, ক্যারিয়ার এভাবে শঙ্কায় ফেলে দেয়া, কখনোই ইতিবাচক হতে পারে না বলে মনে করেন তিনি।
বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়কের ক্যারিয়ার যখন ব্যক্তিগত আক্রোশ আর অবহেলার অন্ধকারে হারিয়ে যেতে বসেছে, তখন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের একটাই প্রত্যাশা, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যেন দ্রুত এই বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। দেশের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সফলতা এনে দেয়া অধিনায়কের, অকালে ঝড়ে যাওয়া চায় না ক্রিকেটপ্রেমীরা।
আরও পড়ুন:
.jpg)







