শনিবার

৮ আগস্ট, ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

বিশ্বকাপে ‘প্রাণনাশের হুমকি’ পেয়েছিলেন মেসি, ফাঁস নথি

স্পোর্টস ডেস্ক:

প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:২৯

শেয়ার

বিশ্বকাপে ‘প্রাণনাশের হুমকি’ পেয়েছিলেন মেসি, ফাঁস নথি
ছবি সংগৃহীত

বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশের ফাঁস হওয়া একটি নিরাপত্তা নথিতে উঠে এসেছে। শুধু মেসি নন, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ম্যাচ কর্মকর্তা ও অন্য খেলোয়াড়দেরও বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল বলে ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্পেনের সংবাদমাধ্যম ইনফরমেশন ডট ইএসের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

নথি অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি ফোন করে হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকবেন এবং তাদের কাছে হ্যান্ড গ্রেনেড ও এআর-১৫ রাইফেল থাকবে।

মেসিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের আগেও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি দাবি করেন, শরীরে চারটি বোমা বেঁধে আটলান্টার স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন তিনি এবং তার লক্ষ্য মেসি। ম্যাচ চলাকালে পুলিশকে ফোন করে গ্যালারির একটি আবর্জনার ঝুড়িতে তিনটি বোমা রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

এরপর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে পুরো স্টেডিয়ামে তল্লাশি চালানো হয়।

রোনালদোকেও ঘিরে ছিল নিরাপত্তা শঙ্কা। ফিফার এক কর্মী পুলিশকে জানান, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি পর্তুগিজ অধিনায়ক কোথায় থাকছেন ও কী করছেন, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। আরেক ব্যক্তি রোনালদোর হোটেলের লিফটে তার সঙ্গে ওঠার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি রোনালদোর সঙ্গে সেলফি তুলতে চেয়েছিলেন বলে জানান।

এদিকে ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে সরাসরি হামলার লক্ষ্য না হলেও বিশ্বকাপের সময় বর্ণবাদী আচরণের শিকার হন। ফ্রান্সের কাছে হারের পর প্যারাগুয়ের কিছু সমর্থক তার কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর পাশাপাশি বর্ণবাদী স্লোগান দেন। দেশটির এক সিনেটরও এমবাপ্পেকে ব্যক্তিগত আক্রমণের পাশাপাশি বর্ণবাদী মন্তব্য করেন। পরে নিজ দেশের রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন সিনেটরের মন্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও এমবাপ্পের পাশে দাঁড়ান।

পেনাল্টি মিস করার পর হত্যার হুমকি পান কলম্বিয়ার গোলরক্ষক হামিন্তন কামপাজ। নিরাপত্তার কারণে জাতীয় দলের সঙ্গে তিনি নিজ দেশেও ফিরতে পারেননি। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করার পর দেশে ফিরে আততায়ীর গুলিতে নিহত কলম্বিয়ার সাবেক ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবারের ঘটনা তখন নতুন করে আলোচনায় আসে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্লিং হলান্ডকে পাস না দেওয়ার ঘটনায় নরওয়ের আলেক্সান্ডার সরলথ ও তার স্ত্রীও মৃত্যুর হুমকি পান।

শুধু খেলোয়াড়রাই নন, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিলেন ম্যাচ কর্মকর্তারাও। আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের দায়িত্বে থাকা ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যাতেক্সিয়ার হোয়াটসঅ্যাপে ছয় হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা আসে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুর হুমকি পেয়েছিলেন সহকারী ভিডিও রেফারি উইলি দেলাজোও।

এ ছাড়া ইংল্যান্ডের মিডিয়া সেন্টারে এক ব্যক্তি রেঞ্চ হাতে ঢুকে চিৎকার শুরু করেন। এরপর সেখানে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। বসানো হয় কংক্রিটের ব্যারিয়ার ও অ্যান্টি-স্নাইপার স্ক্রিন। ড্রোন হামলা ঠেকাতে নো-ফ্লাই জোনও ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছিল।



banner close
banner close