খেলাধুলার জগতে একজন খেলোয়াড়ের ইনজুরি কেবল তার শরীরের ক্ষতচিহ্ন নয়, এটি ভেঙে চুরমার করে দেয় একটি দলের স্বপ্ন, একটি দেশের প্রত্যাশা এবং কোটি ভক্তের আবেগের এক অদৃশ্য রাজপ্রাসাদ। এক মুহূর্তেই নেমে আসে নীরব এক সংকট, যা ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের অনুভূতির গভীরে, গ্যালারি থেকে ড্রেসিংরুম পর্যন্ত।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন সংকটময় সময়ে চিকিৎসা ব্যবস্থার নির্ভুলতাই হয়ে ওঠার কথা সবচেয়ে বড় ভরসা। কিন্তু, সেখানেই যদি উন্মোচিত হয় অবহেলা বা উদাসীনতার নির্মম প্রতিচ্ছবি, তবে তা আর নিছক একটি ভুল বা ত্রুটির গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকে না। বরং তা বিস্তৃত হয়ে প্রশ্ন তোলে বিসিবির সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার দক্ষতা, দায়বদ্ধতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিয়ে।
চোট শনাক্তে ব্যর্থতার অভিযোগ
সম্প্রতি, বাংলাদেশ জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার লিটন দাসের চোট সঠিকভাবে শনাক্ত করতে না পারার অভিযোগ ঘিরে এভার কেয়ার হাসপাতালের ভূমিকা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। জানা যায়, দেশের মাটিতে একাধিকবার স্ক্যান করানোর পরও লিটনের চোট শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। আর এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, রোগ নির্ণয় এবং সিদ্ধান্তহীনতার গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খেতে খেতেই লিটনের চিকিৎসার পেছনে বিসিবির খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা।
তথ্য বলছে, শনিবার (১৪ জুন) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে কাফ মাসলে চোট পান লিটন দাস। তখন মেডিকেল বিভাগ একে গুরুতর নয় বলে জানালে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও দলে রাখা হয় তাকে, যদিও একটি ম্যাচেও খেলতে পারেননি তিনি। পরবর্তীতে জিম্বাবুয়ে সফরের টেস্ট দলে থাকলেও চোট না সারায় বাদ পড়েন। আবার ওয়ানডে দলে ফিরিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে খেলার আশ্বাস দেওয়া হলেও চোট বেড়ে যাওয়ায় দেশে ফিরতে বাধ্য হন লিটন। শেষ পর্যন্ত, ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টেও জায়গা হয়নি তার।
সিঙ্গাপুরে ধরা পড়ে সমস্যা
অভিযোগ রয়েছে, দেশে একাধিক স্ক্যানেও চোট ধরা না পড়লেও সিঙ্গাপুরে পরীক্ষায় পায়ে ফোলা শনাক্ত হয়। জিম্বাবুয়ে ও সিঙ্গাপুরে যাতায়াত এবং চিকিৎসা মিলিয়ে বিসিবির খরচ গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৫ লাখ টাকায়। অন্যদিকে, রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে এমআরআইতে কোনো সমস্যা ধরা না পড়ায় সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই লিটনের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। কিন্তু লিটন বারবারই জানিয়ে আসছিলেন, তার ব্যথা কমেনি, বরং আগের মতোই রয়ে গেছে। এমনকি এভার কেয়ারের স্ক্যানের মান নিয়েও বিসিবির মেডিকেল বিভাগের ভেতরে সংশয়ের কথা উঠে আসে। তবুও, কেন একই প্রতিষ্ঠানে বারবার পরীক্ষা করানো হলো, কেন খেলোয়াড়ের অভিযোগ যথাযথ গুরুত্ব পেল না, এসব প্রশ্ন এখন সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে পুরো ব্যবস্থাপনাকেই।
চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
সব মিলিয়ে শুধু বিসিবির সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার দক্ষতা ও দায়বদ্ধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। অব্যবস্থাপনা এবং সঠিক রোগ নির্ণয়ে ব্যর্থতার কারণে বিসিবির ২৫ লাখ টাকা অপচয়ের প্রশ্ন তুলে, অনেকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ছে বিসিবিকে। যার ফলস্বরূপ, স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত টেস্টের অন্তত প্রথম ম্যাচে, দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার লিটন দাসকে ছাড়াই মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন:








