বুধবার

২২ জুলাই, ২০২৬ ৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩

টানেলে মেসির রহস্যময় বার্তা ও আর্জেন্টিনার ব্যর্থতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২৬ ১৬:০২

শেয়ার

টানেলে মেসির রহস্যময় বার্তা ও আর্জেন্টিনার ব্যর্থতা
ছবি সংগৃহীত

যা হয়েছে সব ভুলে যাও, এখন শুধু শান্ত ভাবে খেলো। এভাবেই বলেছেন লিওনেল মেসি। টানা দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২৬ সালেও হট ফেভারিট ছিল আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু, ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর দলের পারফরম্যান্সের চেয়েও এখন বেশি চর্চায় মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক।

বিশেষ করে টানেলে দাঁড়িয়ে অধিনায়ক লিওনেল মেসির ওই একটি বার্তা জন্ম দিয়েছে হাজারো প্রশ্নের। ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে ড্রেসিংরুমে এমন কী ঘটেছিল, যার কারণে সতীর্থদের সবকিছু ভুলে শুধু খেলায় মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ দিতে হলো কিং লিওকে?

ফাইনালে আধিপত্য ও অগোছালো ফুটবল

পুরো ফাইনালেই ম্যাচজুড়েই আধিপত্য ছিল স্প্যানিশদের। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন ভাঙে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। তবে, সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে স্ক্যালোনির শিষ্যদের অগোছালো ফুটবল। পুরো ৯০ মিনিটে স্পেনের পোস্টে একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা!

অধিনায়কের সেই আবেগঘন আহ্বান কেন কাজে আসেনি, তা নিয়ে চলছে তীব্র বিশ্লেষণ। ফর্মের তুঙ্গে থাকা লাউতারো মার্টিনেজকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা এবং কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির সাময়িক অবসরের রহস্যজনক গুঞ্জন, সব মিলিয়ে দলের ভেতরের অস্থিরতা যেন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল মাঠের খেলায়।

মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণ ও রেফারিং বিতর্ক

বিশ্লেষকদের ধারণা, ফাইনালের আগে স্প্যানিশ শিবিরের মাইন্ড গেম বা মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণ বড় প্রভাব ফেলেছে আর্জেন্টাইনদের ওপর। স্প্যানিশ তারকা রদ্রি এবং এমেরিক লাপোর্তে অভিযোগ তুলেছিলেন, পুরো টুর্নামেন্টেই রেফারিদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পেয়েছে আর্জেন্টিনা। লাপোর্তের দাবি ছিল, আর্জেন্টিনার অনেক ফাউল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এড়িয়ে গেছেন রেফারিরা।

ফাইনালের আগে চারপাশের এমন সমালোচনা, চাপ এবং রেফারিং বিতর্কের বিষয়টি মাথায় রেখেই হয়তো মেসি সবকিছু ভুলে যেতে বলেছিলেন সতীর্থদের। কিন্তু প্রতিপক্ষের পাতা ফাঁদ আর নিজেদের ওপর থাকা পাহাড়সম চাপ কোনোটাই সামলাতে পারেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। উল্টো হতাশা আর ক্ষোভের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ম্যাচ শেষে।

উগ্র আচরণ ও ফিফার তদন্ত

হারের বাঁশি বাজার পর স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ায় আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার। ধাক্কাধাক্কি থেকে শুরু করে গলা চেপে ধরা এবং ঘুষি মারার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। মাঠের সেই উগ্র আচরণ নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। মাঠের হার আর মাঠের বাইরের এই বিতর্ক, সব মিলিয়ে একরাশ হতাশা আর অজানা রহস্য নিয়েই শেষ হলো আর্জেন্টিনার ২০২৬ বিশ্বকাপ মিশন।



banner close
banner close