মঙ্গলবার

২১ জুলাই, ২০২৬ ৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩

এক অদম্য মুসলিম নারীর ত্যাগেই আজকের লামিনে ইয়ামাল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৬ ১১:৫৩

শেয়ার

এক অদম্য মুসলিম নারীর ত্যাগেই আজকের লামিনে ইয়ামাল
লামিনে ইয়ামাল এবং তার দাদি তিমা রোমানি। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল তারকায় পরিণত হয়েছেন লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনার জার্সিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর স্পেনের হয়ে ইউরো জয়ের স্বাদও পেয়েছেন তিনি। তবে মাঠের সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক সংগ্রামী পরিবারের দীর্ঘ ত্যাগ ও আত্মত্যাগের গল্প, যার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন তার পৈতৃক দাদি ফাতিমা রোমানি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া-র এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইয়ামালের সাফল্যের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল বহু বছর আগে। উন্নত জীবনের আশায় ফাতিমা রোমানি একা মরক্কো থেকে স্পেনে পাড়ি জমান। বৈধ কাগজপত্র কিংবা আর্থিক নিরাপত্তা ছাড়াই অচেনা দেশে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ।

স্পেনে পৌঁছে প্রথমে আলজেসিরাস ও গ্রানাদায় কিছুদিন কাটানোর পর তিনি কাতালুনিয়ার মাতারো শহরের রকাফোন্দা এলাকায় স্থায়ী হন। শুরুতে জীবিকা ও আশ্রয়ের সংকটে থাকলেও তিনি একাধিক শিফটে কাজ করে অর্থ সঞ্চয় করেন। সেই অর্থের মাধ্যমে মরক্কোতে থাকা সন্তানদের, যাদের মধ্যে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউইও ছিলেন, স্পেনে নিয়ে এসে পরিবারের পুনর্মিলন ঘটান।

পরবর্তীতে ইয়ামালের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পরও পরিবারকে আগলে রাখেন ফাতিমা। রকাফোন্দার প্রতিকূল পরিবেশে তিনি নাতিকে মানসিক স্থিতি দেন এবং ফুটবলের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে উৎসাহ জোগান। পরিবারের এই সমর্থনই ইয়ামালের ক্যারিয়ার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পরও ইয়ামাল তার শিকড় ভুলে যাননি। গোল করার পর আঙুল দিয়ে '৩০৪' দেখানোর মাধ্যমে তিনি রকাফোন্দা এলাকার পোস্টকোড (০৮৩০৪)-এর প্রতি ভালোবাসা ও নিজের বেড়ে ওঠার স্মৃতি তুলে ধরেন।

ইয়ামাল বিভিন্ন সময় বলেছেন, ট্রফি জয়ের চেয়েও তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো বাবা, মা ও দাদিকে সুখে-শান্তিতে রাখা। ফুটবল থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি রকাফোন্দায় দাদি ফাতিমা রোমানির জন্য একটি বাড়ি কিনে দিয়েছেন, যেখানে তিনি বর্তমানে বসবাস করছেন।

বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও লামিনে ইয়ামাল বারবার স্মরণ করেন, তার সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান সেই সংগ্রামী দাদির, যিনি নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলেছিলেন।



banner close
banner close