সোমবার

২০ জুলাই, ২০২৬ ৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণ আজ

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১০:২২

শেয়ার

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণ আজ
ছবি সংগৃহীত

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপসেরা স্পেন আজ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে। নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় অনুষ্ঠিত হবে শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচ। আর্জেন্টিনা জিতলে নিজেদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতবে। অন্যদিকে স্পেনের সামনে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ।

ফাইনালের আগের দিন নিউ জার্সির আবহাওয়া ছিল প্রতিকূল। ঘন কালো মেঘ, বজ্রপাত ও প্রবল বৃষ্টির কারণে স্পেনের মাঠের অনুশীলন বাতিল করতে হয়েছে। এ ছাড়া কানাডার দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়া, নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি অঞ্চলের বায়ুমানের উদ্বেগ এবং গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার সম্ভাবনাও দুই দলের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলেছে।

আর্জেন্টিনার সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ

চার বছর আগে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর আবারও ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। দলটির অধিনায়ক লিওনেল মেসির বয়স এখন ৩৯ বছর। গতি আগের মতো না থাকলেও এবারের বিশ্বকাপেও তিনি গোল করেছেন, সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের খেলায় প্রভাব রেখেছেন। এই ফাইনালই তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হতে পারে।

লিওনেল স্কালোনির দল এবারের বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠতে কঠিন পথ পাড়ি দিয়েছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে জয়, মিসরের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের প্রত্যাবর্তন, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন লড়াই এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও শেষ পাঁচ মিনিটে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তারা ফাইনালে পৌঁছেছে।

আর্জেন্টিনার ২৬ সদস্যের দলে ১৭ জনই ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াডের সদস্য। সেই অভিজ্ঞতা কঠিন পরিস্থিতিতেও দলকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা সব সময় দাপুটে ফুটবল না খেললেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা দেখিয়েছে।

আজ জিততে পারলে ব্রাজিল ও ইতালির পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকার পর টানা চতুর্থ বড় আন্তর্জাতিক শিরোপাও জিতবে তারা।

স্পেনের লক্ষ্য দ্বিতীয় বিশ্বকাপ

লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন এবারের বিশ্বকাপে নিয়ন্ত্রিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলেছে। বল দখল, ছোট ছোট পাস, জায়গা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণের পথ বন্ধ করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখাই তাদের কৌশল।

স্পেন টানা ৩৭ ম্যাচ ধরে অপরাজিত রয়েছে। অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব শুরু করার পর তারা পর্তুগাল, বেলজিয়াম ও ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে তারা।

স্পেনের মাঝমাঠে রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ ও দানি ওলমো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। রক্ষণে পাউ কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্ত, পেদ্রো পোরো ও মার্ক কুকুরেয়া দলকে স্থিতিশীলতা দিয়েছেন। গোলরক্ষক উনাই সিমোনও পুরো টুর্নামেন্টে নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।

আক্রমণভাগে লামিনে ইয়ামাল স্পেনের অন্যতম ভরসা। ডান প্রান্তে তার গতি, ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

স্পেন জিততে পারলে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতবে। পাশাপাশি ২০০৮ ইউরো ও ২০১০ বিশ্বকাপের পর আবারও ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন থেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়বে।

কৌশলগত লড়াইয়ের অপেক্ষা

ফাইনালে দুটি ভিন্ন ফুটবল দর্শনের মুখোমুখি লড়াই দেখা যাবে। স্পেন ম্যাচকে নিয়ন্ত্রণে রেখে নিজেদের পাসিং ফুটবলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে চাইবে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামবে।

আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ রক্ষণভাগ। প্রথম দুই ম্যাচ ছাড়া তারা আর কোনো ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলশূন্য রাখতে পারেনি। অন্যদিকে স্পেনের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে প্রতিকূল আবহাওয়া। মাঠের মান খারাপ হলে কিংবা বৃষ্টি ও আর্দ্রতায় ম্যাচের গতি ব্যাহত হলে তাদের স্বাভাবিক পাসিং ছন্দে প্রভাব পড়তে পারে।

নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ৮০ হাজারের বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ফাইনালে একদিকে থাকবে আর্জেন্টিনার চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন, অন্যদিকে স্পেনের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বসেরা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শেষ পর্যন্ত কোন দল শিরোপা জিতে ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করবে, তার উত্তর মিলবে আজকের ফাইনালেই।



banner close
banner close