রবিবার

১৯ জুলাই, ২০২৬ ৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

সাকার হ্যাটট্রিকে ব্রোঞ্জ জিতল ইংল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০

শেয়ার

সাকার হ্যাটট্রিকে ব্রোঞ্জ জিতল ইংল্যান্ড
ছবি সংগৃহীত

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেকেই বলেন 'সান্ত্বনা' পুরস্কারের লড়াই। কিন্তু এমন ম্যাচেই ছড়াল চরম উত্তেজনা ও রোমাঞ্চ। দশ গোলের এক লড়াইয়ে বুকায়ো সাকা গড়লেন হ্যাটট্রিক, আর কিলিয়ান এমবাপে জোড়া গোলে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে হলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল ইংল্যান্ড।

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড এগিয়ে ছিল ৪-০ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের ব্যবধান ছিল ২-৪। হ্যাটট্রিক করেছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকা। ইংল্যান্ডের বাকি তিন গোল ডেক্লান রাইস, এজরি কনসা ও জুড বেলিংহামের।

ফ্রান্সের হয়ে জোড়া গোল করেছেন এমবাপে। একটি করে গোল করেছেন ব্রাডলি বারকোলা ও উসমান দেম্বেলে। দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও হার এড়াতে পারেনি ২০১৮ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপে তৃতীয় হলো ইংল্যান্ড, ১৯৬৬ সালের পর যা তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য।

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে ডেক্লান রাইসের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। মাঝমাঠে ফরাসি ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ের ভুল পাসে বল পান ইংলিশ মিডফিল্ডার। সেখান থেকে দূরপাল্লার শটে গোলকিপার মাইক মাইনানকে পরাস্ত করেন তিনি।

১১ মিনিটে বাঁ প্রান্ত ধরে উঠে ব্যাকপাস দেন এমবাপে। বক্সের সামনে থেকে নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার ডিন হেন্ডারসন। প্রতি-আক্রমণে উঠে ফ্রান্সের জালে বল জড়ান বুকায়ো সাকা, তবে অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়।

১৮ মিনিটে রাইসের কর্নার থেকে হেডে ইংল্যান্ডের লিড দ্বিগুণ করেন এজরি কনসা। প্রথমার্ধ শেষে ফ্রান্স একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের মুখোমুখি হয়— বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো এক অর্ধে চার গোল হজম করল দলটি।

৩৩ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের দূরপাল্লার শট ঠেকান ফরাসি গোলকিপার। এর পরই দারুণ সেভে এমবাপেকে হতাশ করেন হেন্ডারসন। প্রতি-আক্রমণে রাশফোর্ডের বাড়ানো বল থেকে খালি গোলে ৩৭ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন সাকা।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ফের জাল কাঁপান সাকা, জোড়া গোলে বিরতিতে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে ইংল্যান্ড।

বিরতির পর একসঙ্গে চার পরিবর্তন আনেন ফরাসি কোচ দিদিয়ে দেশম, যা কাজে দেয়। ৪৮ মিনিটে দায়ত উপামেকানোর নিখুঁত পাস থেকে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে জাল কাঁপান এমবাপে, ব্যবধান কমান ৪-১।

৫৪ মিনিটে ব্যবধান আরও কমান ব্রাডলি বারকোলা। গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে স্কোরলাইন ৪-২ করেন তিনি।

৬৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও ম্যাচের চতুর্থ গোলটি করেন এমবাপে, ব্যবধান নামিয়ে আনেন ৪-৩ এ। মিশেল ওলিসের চমৎকার ফ্লিক থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে হেন্ডারসনকে পরাস্ত করেন ফরাসি অধিনায়ক।

এই গোলে ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করেন এমবাপে। চলতি বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১০টি, যা মেসির ৮ গোলের চেয়ে দুটি বেশি। ১৯৭০ সালে গার্ড মুলারের পর এমবাপেই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি এক বিশ্বকাপে ১০টি গোল করলেন। একই সঙ্গে ক্যারিয়ারে ২২ গোল নিয়ে তিনি ছাড়িয়ে গেলেন মেসির ২১ গোলের রেকর্ড, হয়ে উঠলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

এ নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে মোট সাতটি অ্যাসিস্ট করলেন ওলিসে, যা ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলের গড়া রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন সর্বোচ্চ।

ফ্রান্সের একের পর এক আক্রমণে যখন ইংল্যান্ডের লিড হুমকির মুখে, তখনই ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। সফল স্পট কিকে ব্যবধান ৫-৩ করার পাশাপাশি হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাকা।

১৯৬৬ সালের ফাইনালে জিওফ হার্স্টের পর সাকা হলেন ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় খেলোয়াড়, যিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করলেন।

যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে ব্যবধান কমান উসমান দেম্বেলে। আর অষ্টম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে ব্যবধান ৬-৪ করেন জুড বেলিংহাম, যদিও তাতে ফলাফলে কোনো হেরফের হয়নি।

এই গোলসহ চলতি বিশ্বকাপে বেলিংহামের গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৭টি, যা আর্লিং হলান্ডের সমান, আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ। আর দেম্বেলের গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৬টি, যা হ্যারি কেইনের সমান, আসরের চতুর্থ সর্বোচ্চ।



banner close
banner close