২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। অনেকের চোখে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে শক্তিশালী দুই দলই এবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামছে। তবে শেষ পর্যন্ত ফাইনালের টিকিট পাবে কেবল একটি দল।
মঙ্গলবার ( ১৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় (১৫ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে মাঠে নামবে লা রোজা এবং লে ব্লুজ'রা।
এই মহারণের আগে দুই দলের দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাসে এক নজর।
ফ্রান্স ও স্পেন প্রথম মুখোমুখি হয়েছিল ১৯২২ সালের ৩০ এপ্রিল। ফ্রান্সের বোর্দোতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে স্বাগতিকদের ৪-০ গোলে হারায় স্পেন। বার্সেলোনার কিংবদন্তি পাউলিনো আলকান্তারা এবং ট্রাভিয়েসো জোড়া গোল করেছিলেন সেই ম্যাচে।
এরপর দীর্ঘ সময় দুই দল কেবল প্রীতি ম্যাচেই একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। প্রায় ৬২ বছর পর প্রথমবার কোনো বড় প্রতিযোগিতার ম্যাচে দেখা হয় তাদের, আর সেটি ছিল ইউরো ১৯৮৪-এর ফাইনাল। স্বাগতিক ফ্রান্সের বিপক্ষে ইউরোপিয়ান শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছিল স্পেন। তবে মিশেল প্লাতিনির অনুপ্রেরণায় দারুণ ছন্দে থাকা ফরাসিরা সেই সুযোগ দেয়নি।
ঘণ্টাখানেক গোলশূন্য থাকার পর বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি-কিক পান ফ্রান্স। প্লাতিনির নেওয়া নিচু শট সহজেই আটকানোর কথা ছিল স্পেনের গোলরক্ষক লুইস আরকোনাদার। কিন্তু বলটি হাত ফসকে জালে ঢুকে যায়। সেই ভুল এখনো ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম আলোচিত গোলকিপিং ভুল হিসেবে স্মরণ করা হয়। পরে ফ্রান্স ২-০ ব্যবধানে জিতে প্রথমবারের মতো ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়।
এদিকে, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে দেখা গেছে স্পেনের দাপট। দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে। গোলবন্যার সেই ম্যাচে স্পেন ৫-৪ ব্যবধানে জয় পায়।
একপর্যায়ে স্পেন ৪-০ এবং পরে ৫-১ গোলে এগিয়ে থাকলেও শেষ দিকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ফ্রান্স। বদলি খেলোয়াড় রায়ান শেরকির দুর্দান্ত গোল ব্যবধান কমানোর সূচনা করলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি নিজেদের করে নেয় লা রোজারা।
সেই ম্যাচে লামিন ইয়ামাল দুটি গোল করেন, যার একটি ছিল পেনাল্টি থেকে। নিকো উইলিয়ামসও একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। তবে চলতি বিশ্বকাপে ইনজুরির কারণে নিকো উইলিয়ামসের পূর্ণ ছন্দে না থাকা স্পেনের আক্রমণে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।
আরও পড়ুন:








