শনিবার

১১ জুলাই, ২০২৬ ২৭ আষাঢ়, ১৪৩৩

স্পেনের স্কিলের কাছেই হার মানল বেলজিয়াম

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০

শেয়ার

স্পেনের স্কিলের কাছেই হার মানল বেলজিয়াম
ছবি সংগৃহীত

শুরুর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত ড্রয়ের পর স্পেনের টিকিটাকা ফুটবল নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। তবে সেই সমালোচনার জবাব মাঠেই দিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি স্পেনের তৃতীয় সেমিফাইনাল। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় শিরোপা জয়ের পর এবার আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে তারা। আগামী ১৪ জুলাই ডালাসে সেমিফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স।

ম্যাচের আগে পরিসংখ্যানও ছিল স্পেনের পক্ষে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে আগের ২২ দেখায় ১২ জয়ের বিপরীতে তাদের হার ছিল মাত্র পাঁচটি। এছাড়া এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ধরে রাখে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ইতালির রেকর্ডও স্পর্শ করেছে তারা।

৪-২-৩-১ ফরমেশনে মাঠে নেমে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্পেন। আক্রমণে ছিলেন মিকেল ওইয়ারজাবাল, তার পেছনে লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো ও অ্যালেক্স বাইনা। মাঝমাঠ সামলান রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজ।

স্পেনের আক্রমণের প্রাণ ছিলেন ইয়ামাল। পুরো ম্যাচে তিনি ৮০ বার বল স্পর্শ করেন, ছয়টি শট নেন, যার দুটি ছিল লক্ষ্যে। প্রথম গোলেও ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ৩০তম মিনিটে ডান প্রান্তে ইয়ামালের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে পেদ্রো পোরো বল বাড়িয়ে দেন দানি ওলমোকে। ওলমোর শট ঠেকাতে গিয়ে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ফিরতি বলে ফাবিয়ান রুইজ সহজ ফিনিশে স্পেনকে এগিয়ে দেন।

প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন ইয়ামাল। ৩৫ মিনিটে তার নেওয়া দুর্দান্ত ফ্রি-কিক কোর্তোয়া সেভ করেন। পাঁচ মিনিট পর রদ্রির পাস থেকে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নেওয়া তার বাঁ পায়ের শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে বেলজিয়াম সমতায় ফেরে। টিমোথি কাস্তানিয়ের ক্রস থেকে চার্লস ডি কেটেলারা হেডে গোল করে স্পেনের টানা পাঁচ ম্যাচ এবং ৬০০ মিনিটের বেশি সময় গোল না খাওয়ার রেকর্ড ভেঙে দেন।

তবে শেষ হাসি হাসে স্পেনই। ৮৬ মিনিটে দানি ওলমোর বদলে মাইকেল মেরিনোকে মাঠে নামান কোচ দে লা ফুয়েন্তে। বদলি হিসেবে নেমে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের দারুণ সমন্বয় থেকে গোল করে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মেরিনো। সেই গোলই নিশ্চিত করে সেমিফাইনালের টিকিট।

বেলজিয়ামও ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেললেও তাদের পরিকল্পনা ছিল মূলত কাউন্টার অ্যাটাকনির্ভর। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত স্পেনের ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে তাদের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে।

পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট ছিল স্পেনের আধিপত্য। বলের দখল ছিল ৬৮ শতাংশ, যেখানে বেলজিয়ামের ছিল ৩২ শতাংশ। স্পেন লক্ষ্যে আটটি শট নেয়, বেলজিয়াম নিতে পারে মাত্র দুটি। পাসের সংখ্যাতেও বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল স্প্যানিশরা—৫৯৮টির বিপরীতে বেলজিয়ামের পাস ছিল ২৪৪টি।

বেলজিয়ামের ত্রাতা হিসেবে আগের ম্যাচগুলোতে বদলি নেমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা রোমেলু লুকাকুও এদিন নিষ্প্রভ ছিলেন। শেষ ৩০ মিনিট খেলেও তিনি গোলমুখে কোনো শট নিতে পারেননি এবং মাত্র পাঁচবার বল স্পর্শ করেন।



banner close
banner close