নেইমারের চোট না থাকলে ভালো কিছু থাকতো ব্রাজিলের! হেক্সার স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই কাঁদলেন ও কাঁদালেন নেইমার। ফুটবলের শেষ রাজপুত্র। এক সোনালী অধ্যায় শেষে চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র।
নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাস যেন এক বিষণ্ণ সমাপ্তির সাক্ষী হয়ে রইল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে শুধু পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিদায় ঘটেনি, পতন ঘটেছে এক সোনালী অধ্যায়েরও। হলুদ জার্সিতে আর দেখা যাবে না ফুটবল সুপারস্টার নেইমার জুনিয়রকে। বিদায়বেলায় তার অঝোর কান্না স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো ফুটবল বিশ্বকে।
নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস! এই চেনা আঙিনা থেকে যেখানে একদিন শুরু হয়েছিল তার আন্তর্জাতিক মহাকাব্য, ঠিক সেখানেই লেখা হলো শেষ লাইন। কান্নাভেজা কণ্ঠে কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে বিদায়ের ঘোষণা দিলেন এই তারকা। একবুক আক্ষেপ নিয়ে তিনি বললেন, বারবার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু হলুদ জার্সিতে এটিই তার শেষ।
সান্তোসের দিনগুলোর চমৎকার ড্রিবলিং, বার্সেলোনা-পিএসজি ও ব্রাজিলের হয়ে দারুণ সব গোলের কোলাজ। এরপর মাঠে ফাউল হয়ে পড়ে থাকার কিছু বিতর্কিত দৃশ্য।
ফুটবল বিশ্ব তাকে চিনেছে ‘জোগো বোনিতো’ বা সুন্দর ফুটবলের শেষ রাজপুত্র হিসেবে। সান্তোসের সেই ছেলেটির পায়ের ছন্দে মাতোয়ারা হয়েছিল বিশ্ব। মাঠে তিনি যেন কবিতা লিখতেন। তার ধূমকেতুর মতো চোখধাঁধানো উত্থান যতটা মুগ্ধ করেছে, ঠিক ততটাই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে তার ‘প্লে-অ্যাক্টিং’। ফাউলের শিকার হয়ে রেফারির সহানুভূতি আদায়ের শিশুসুলভ আচরণ বারবার তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। প্রতিভার দ্যুতি ঢাকা পড়েছে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের মেঘে।
তবে নেইমারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় খলনায়ক কোনো মানুষ নয়, বরং বারবার হানা দেওয়া ইনজুরি। চোট আর দুর্ভাগ্যের আঘাত তার সোনালী পাতাগুলোকে করেছে ছিন্নভিন্ন। হেক্সা জয়ের অপূর্ণ স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবার শেষ বিন্দু দিয়ে লড়াই করলেও ভাগ্যদেবতা সহায় হননি। ১০ নম্বর জার্সির এই জাদুকরকে তাই বিদায় নিতে হলো একজন ট্র্যাজিক হিরো হিসেবে, যার গল্পে প্রাপ্তির চেয়ে না-পাওয়ার হাহাকারই বেশি। আজও কোটি সমর্থকের মনে দীর্ঘশ্বাস জাগে— নেইমার যদি এতবার ইনজুরিতে না পড়তেন, তবে কি সেলেসাওদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষা এত দীর্ঘ হতো?
এমন কঠিনতম মুহূর্তে পরম নির্ভরতার প্রতীক হয়ে নেইমারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রিয় বন্ধু লিওনেল মেসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘শক্ত হও বন্ধু। তোমাকে নতুন করে প্রমাণের কিছু নেই, তুমি অনেক আগেই বিশ্বজয় করেছো।’
দুই কিংবদন্তির এই হৃদ্যতা যেন হার-জিতের ঊর্ধ্বে ফুটবলের আসল সৌন্দর্যকেই ফুটিয়ে তুলেছে আরেকবার।
একবুক শূন্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিলেন এই বরপুত্র। বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা হয়তো তার ছোঁয়া হয়নি, কিন্তু ভক্তদের হৃদয়ে তিনি যে সিংহাসন গড়েছেন, তা অম্লান থাকবে চিরকাল। বিদায়, নেইমার জুনিয়র।
আরও পড়ুন:








