শনিবার

৪ জুলাই, ২০২৬ ২০ আষাঢ়, ১৪৩৩

৯২ বছরের দুঃখ মুছে শেষ ষোলোতে মিশর

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ জুলাই, ২০২৬ ০৩:০০

শেয়ার

৯২ বছরের দুঃখ মুছে শেষ ষোলোতে মিশর
ছবি সংগৃহীত

১৯৩৪ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডেই হাঙ্গেরির কাছে হেরেছিল মিশর। ৪-২ ব্যবধানের সেই হারে সেবার ভেঙে যায় পিরামিডের দেশের ফুটবল যোদ্ধাদের মন। দীর্ঘ ৯২ বছর পর বিশ্বমঞ্চের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার নতুন সুযোগ আসে তাদের সামনে।

এবার আর আশাভঙ্গের গল্প নয়, বরং লেখা হলো ইতিহাস। আর্লিংটনের নির্ধারিত সময়ের রোমাঞ্চকর ১-১ লড়াইয়ের পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কোচ হোসাম হাসানের দল।

এদিন প্রথম শট নিতে এসেই গড়বড় করে বসেন অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি শুটার। বারের ওপর দিয়ে বল মেরে দেন তিনি। মাহমুদ সাবের প্রথম শট নিতে এসে মিশরকে এগিয়ে নেন। তবে দ্বিতীয় শটে গোল করে কিছুটা দলকে স্বস্তি এনে দেন জ্যাকসন আরবিন। মিশর তাদের দ্বিতীয় শটেও গোল আদায় করে।,

এবার আর ভুল হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। তৃতীয় শটে আওয়ার মাবিল গোল করে বসেন। মিশরের তৃতীয় শট ঠিকঠাক হলেও চতুর্থ শট নিতে এসে আরেকবার অস্ট্রেলিয়াকে বেকাদায় ফেলেন হেরিংটন। তাতে চতুর্থ শট নিতে এসে আবদেল মাগিদের বল জালে জড়ালে উৎসব শুরু হয় মিশরের।

এদিন ম্যাচের ১৩তম মিনিটের মাথায় ইমাম আশুরের গোলে এগিয় যায় মিশর। ফ্রি-কিক থেকে দারুণ এক পরিকল্পিত আক্রমণ সাজায় দলটি। মোহাম্মদ সালাহ সরাসরি শট না নিয়ে ছোট পাস দেন ইমান আশুরকে। আশুরের প্রথম শটটি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে আসে।

তবে বলটি বিপদমুক্ত করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। আবারও বল ভেসে আসে বক্সে, আর পেছনের পোস্টে ওঁত পেতে থাকা আশুর এবার নিখুঁত হেডে জাল খুঁজে নেন।

এরপর ২১তম মিনিটে লিড দ্বিগুণের সুযোগ ছিল মিশরের। ফাতির চমৎকার ও প্রথম টাচেই বাড়ানো এক পাসে বল পেয়ে যান জিকো, আর বল টেনেই তিনি অস্ট্রেলিয়ার ডি-বক্সের দিকে তীব্র গতিতে ছুটে যান। এরপর তিনি বাম পোস্টের পাশ দিয়ে বল মাঠের বাইরে মারেন। যদিও ঠিক পরপরই অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি অফসাইডের পতাকা তোলেন। এই অফসাইডের সিদ্ধান্তটি মিশরের এই ফরোয়ার্ডের জন্য স্বস্তিরই বটে। কারণ বলটি যেভাবে পেয়েছিলেন তা থেকে তাঁর গোল করা উচিত ছিল!

প্রথমার্ধ ১-০ গোলে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিটে অস্ট্রেলিয়া সমতায় ফেরে মোহাম্মদ হানির করা আত্মঘাতী গোলে। ফ্রি–কিক থেকে উড়ে আসা বলটিকে ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন হানি। কিন্তু ঠিকঠাক সংযোগে ব্যর্থ হওয়ায় বল জড়ায় নিজেদে জালে।,

বিশ্বকাপের ইতিহাসে একাধিক আত্মঘাতী গোল করা প্রথম ফুটবলার হয়ে গেছেন হানি। তিনি ছাড়াও আরও ৬৫ জন বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করেছেন তবে কেউই একটির বেশি নয়। এছাড়া হানির এই গোলে ২০২৬ বিশ্বকাপও উঠে গেছে ইতিহাসের পাতায়। চলতি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত হয়েছে ৬৭টি আত্মঘাতী গোল। বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড এটি। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে হয়েছিল ১২টি আত্মঘাতী গোল।

এরপর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে দারুণ এক সেভে অস্ট্রেলিয়াকে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাঁচান গোলকিপার পেট্রিক বিচ। উড়ে আসা বল হেডারে পোস্টে বল পাঠান রাবিয়া। তার জোরালো হেডটি নিশ্চিতভাবেই জালের ওপরের অংশে জড়াতে যাচ্ছিল, কিন্তু বিচ নিজের শরীরের ভর চমৎকারভাবে নিয়ন্ত্রণ করে লাফিয়ে উঠে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে বল পাঠিয়ে দেন।

৯০ মিনিট শেষে ১–১ সমতায় থাকে মিশর–অস্ট্রেলিয়া। ফল নির্ধারণের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট দেওয়া হয় দুই পক্ষকে। এই ৩০ মিনিটেও ফল না আসায় ভাগ্য নির্ধারণের জন্য টাইব্রেকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।



banner close
banner close