শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে ভর করে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে জয় তুলে নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল ব্রাজিলের। প্রথম ২৫ মিনিটে প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পায়নি তারা। ব্রুনো গিমারায়েস, লুকাস পাকেতা ও মাতেউস কুনহার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন জাপানি গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকি।
খেলার ২৯তম মিনিটে উল্টো এগিয়ে যায় জাপান। মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে সানো দ্রুত এগিয়ে গিয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠান। তার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জাপান।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে পরিবর্তন আনে ব্রাজিল। লুকাস পাকেতার পরিবর্তে মাঠে নামেন তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিক। এরপর আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ায় সেলেসাওরা।
৫৬তম মিনিটে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। একাধিক আক্রমণের পর কাসেমিরো গোল করে স্কোরলাইন ১-১ করেন। এর আগে ৫৫ মিনিটে তার হেড গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন জাপানের ডিফেন্ডার তোমিয়াসু।
গোল শোধের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এন্দ্রিক ও গিমারায়েসের নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ চালানো হলেও সুজুকির দৃঢ়তায় বারবার হতাশ হতে হয় তাদের। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুসের একটি দারুণ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
ম্যাচের শেষ দিকে জাপান রক্ষণাত্মক কৌশলে ব্রাজিলকে আটকে রাখার চেষ্টা করে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হয় ছয় মিনিট।
যখন ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত। ৯৬তম মিনিটে তানাকার ভুল থেকে বলের দখল পায় ব্রাজিল। ব্রুনো গিমারায়েসের বাড়ানো থ্রু পাস ধরে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি দ্রুত ডান দিকে কাট করে জোরালো শট নেন। বল পোস্টে লেগে জালে জড়িয়ে গেলে উল্লাসে ফেটে পড়ে ব্রাজিল শিবির।
মার্তিনেল্লির সেই শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল। নাটকীয় এই জয়ে শেষ ষোলোর টিকিটও নিশ্চিত করল সেলেসাওরা।
আরও পড়ুন:








