মঙ্গলবার

১৬ জুন, ২০২৬ ২ আষাঢ়, ১৪৩৩

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে বিশ্বকাপের মাঠে ইরান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬ ১৫:৫৮

আপডেট: ১৫ জুন, ২০২৬ ১৫:৫৯

শেয়ার

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে বিশ্বকাপের মাঠে ইরান
ছবি: সংগৃহীত

‘আমরা এখানে ভালো ফুটবল খেলতে এসেছি। মাঠের বাইরের কোনো বিতর্কে আমাদের মনোযোগ নেই। আমরা রাজনীতি করতে আসিনি। ফুটবল আর রাজনীতি এক নয়।’

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগের দিন এমনই বার্তা দিলেন ইরানের কোচ আমির গালেনোয়ি।

গত কয়েক সপ্তাহে যুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, কূটনৈতিক উত্তেজনা আর ভিসা জটিলতার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে ইরান। মাঠে নামার আগেই যেন সবচেয়ে কঠিন ম্যাচটি খেলে ফেলেছে এশিয়ার অন্যতম সেরা দল।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে গ্রুপ 'জি'র প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ইরান। কিন্তু ম্যাচের আগের আলোচনায় ফুটবলের চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে আছে যুদ্ধ এবং রাজনীতি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। ভিসা জটিলতার কারণে শেষ মুহূর্তে তাদের অনুশীলন ক্যাম্প সরিয়ে নিতে হয় যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর তিজুয়ানায়। ইরানি প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্য এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি।

এরই মধ্যে স্বস্তির খবরও এসেছে। বিশ্বকাপে ইরানের অভিষেকের মাত্র এক দিন আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান চলমান সংঘাতের অবসানে একটি স্থায়ী সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছে। এতে অন্তত যুদ্ধের আতঙ্ক কিছুটা কমেছে।

তবে মাঠের বাইরের উত্তাপ এখনো পুরোপুরি থামেনি। লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচ চলাকালে ইরানের কট্টরপন্থি সরকারের বিরোধী প্রবাসী ইরানিদের বিক্ষোভের ঘোষণা রয়েছে। এমনকি সরকারবিরোধী ব্যানার প্রদর্শিত হলে ইরান দল মাঠ ছেড়ে চলে যেতে পারে বলেও আলোচনা চলছে।

তার ভাষায়, ‘প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব সমস্যা আছে। সেগুলোর সঙ্গে ফুটবলের সম্পর্ক নেই। আমরা দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা সব ইরানির প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছি।’

এই বিশ্বকাপ তাই ইরানের জন্য শুধু ফুটবলের লড়াই নয়, এটি এক অর্থে সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরারও প্রতীক। যুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়েই আজ তারা নামবে সবুজ ঘাসের মঞ্চে। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। কিন্তু ইরানের সবচেয়ে বড় লড়াই যেন মাঠের প্রতিপক্ষের চেয়েও অনেক বড়।



banner close
banner close