২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার। সন্তানদের ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত প্রায় ১৩ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থকের স্টেডিয়ামে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে দেশটি।
বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দলটির প্রথম ম্যাচ আলজেরিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের মুখোমুখি হবে তারা।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এমন একটি তালিকা দিয়েছে, যেখানে মূলত সন্তানদের ভরণপোষণ বা ‘চাইল্ড সাপোর্ট’ পরিশোধে ব্যর্থ ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের মতে, যারা নিজেদের সন্তানদের প্রতি আর্থিক দায়িত্ব পালন করেন না, তাদের বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া উচিত নয়।
এ বিষয়ে বুয়েনস আইরেসের মেয়র হোর্হে মাখরি বলেন, “যদি কেউ নিজের সন্তানের প্রয়োজন মেটাতে না পারে, তাহলে তার কোনো স্টেডিয়ামে প্রবেশের অধিকার নেই।”
এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে আর্জেন্টিনার ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ কর্মসূচি। উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত ও শাস্তির আওতায় আনা, যারা সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হলেও খেলাধুলা উপভোগে অর্থ ব্যয় করেন। সরকারি সূত্র জানায়, মার্কিন কর্তৃপক্ষকে দেওয়া তালিকায় আদালতে প্রমাণিত ভরণপোষণ বকেয়া সংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাম রয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে এসব বকেয়া পরিশোধ না করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে অভিযান জোরদার করেছে আর্জেন্টিনা সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে তারা নিশ্চিত করতে চায়, এ ধরনের কোনো ব্যক্তি যেন বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগের সুযোগ না পান।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পর থেকে আর্জেন্টিনায় ১ হাজার ৩২৮টি ফুটবল ম্যাচে ৪০ লাখের বেশি দর্শকের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এ সময় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ১ হাজার ১৬৬ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং কয়েক ডজন প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।
তবে তালিকাটি শুধু ভরণপোষণ বকেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সহিংস অপরাধ ও স্টেডিয়াম-সংক্রান্ত বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী পাত্রিসিয়া বুররিচ জানিয়েছেন, স্টেডিয়ামে প্রবেশ নিষিদ্ধ ব্যক্তিদের সংখ্যা ১৫ হাজারেরও বেশি।
তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্জেন্টিনার স্টেডিয়ামে অপরাধ বা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত কেউ যেন এই বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজনে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
আরও পড়ুন:








