বুধবার

১০ জুন, ২০২৬ ২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ জুন, ২০২৬ ২০:১৮

শেয়ার

অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের
ছবি সংগৃহীত

২১ বছর আগে কার্ডিফে মোহাম্মদ আশরাফুলের সেঞ্চুরি আর আফতাব আহমেদের ছক্কায় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই একমাত্র জয়ের পাশে এবার নতুন অধ্যায় যোগ হলো মিরপুরে। ব্যাটে মোসাদ্দেক হোসেন, বলে নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদের দাপটে ডার্কওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ৮৬ রানের বড় জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে নিজেদের করে নিল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রানে আটকে থাকা অবস্থায় বৃষ্টি ও বজ্রপাতে খেলা বন্ধ হয়ে গেলে ডিএলএস পদ্ধতিতে জয় ঘোষণা করা হয় স্বাগতিকদের। ১৫ বছর পর বাংলাদেশ সফরে এসে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল অস্ট্রেলিয়া।

ব্যাটিংয়ে ধাক্কার পর মোসাদ্দেকের রক্ষা

শুরুটা ভালো ছিল না স্বাগতিকদের। দ্বিতীয় ওভারে নাথান এলিসের বলে মারনাস লাবুশেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫ রানে ফেরেন সাইফ হাসান। তবে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় উইকেটে ৯৬ রানের জুটিতে দলকে শক্ত ভিত দেন।

তানজিদ ৪৪ বলে ৫৪ রান করে ফেরেন; ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও একটি ছক্কা। শান্ত ৮৬ বলে ৯টি চার ও একটি ছক্কায় করেন ৬৭। লিটন দাসের ৭ রানে ফেরা ও ২৬তম ওভারে শান্তের বিদায়ে ১৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

সেখান থেকেই ইনিংস ঘুরিয়ে দেন মোসাদ্দেক। দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফিরে তিনি খেলেন ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রানের দৃঢ় ইনিংস—সাতটি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো। তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ৭৫ রানের জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি। হৃদয় করেন ৫১ বলে ৩১। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের ১৬ বলে ২০ রানের ক্যামিও বাংলাদেশকে ২৮৪ রানে পৌঁছে দেয়।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস ৩৮ রানে নেন ৩ উইকেট। ম্যাট রেনশ ও অভিষিক্ত লিয়াম স্কট পান ২টি করে উইকেট।

বোলিংয়ে তাসকিন-মোস্তাফিজের ঝড়, নাহিদের তাণ্ডব

২৮৫ রানের লক্ষ্যে নেমে প্রথম বলেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। তাসকিনের সুইংয়ে বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট, দলের রান তখনও শূন্য। পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান লাবুশেনকে এলবিডব্লিউ করলে ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় সফরকারীরা।

মাঝপথে নাহিদ রানা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিজেদের করে নেন। লিটন দাসের হাতে ক্যাচে জশ ইংলিসকে ফেরানোর পর অ্যালেক্স ক্যারি, লিয়াম স্কট ও জেভিয়ার বার্টলেটকেও তুলে নেন তিনি। ১০ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেওয়া নাহিদের গতি ও বাউন্সে অস্বস্তি ছিল অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের চোখেমুখে। ব্যাটের পর বলেও সক্রিয় ছিলেন মোসাদ্দেক; ১০ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে কনোলি ও রেনশকে ফিরিয়ে নেন ২ উইকেট।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ক্যামেরন গ্রিন অপরাজিত ৫২, অ্যালেক্স ক্যারি ৪৭ ও কুপার কনোলি ৩৫ রান করলেও বাকি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ২০ পেরোতে পারেননি কেউ।

কার্ডিফে অঘটনের রাতে আশরাফুল-আফতাবের স্মৃতির পাশে মিরপুরে নাম লেখালেন মোসাদ্দেক, নাহিদ ও তাসকিনরা। পরিকল্পনা, পেস ও ব্যাটিং গভীরতায় অস্ট্রেলিয়া-বধের এই গল্প বদলে যাওয়া বাংলাদেশেরই ঘোষণা।



banner close
banner close