বুধবার

১০ জুন, ২০২৬ ২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিশ্বকাপে চোটের অভিনয় করলেই শাস্তি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ জুন, ২০২৬ ১১:১৪

শেয়ার

বিশ্বকাপে চোটের অভিনয় করলেই শাস্তি
ছবি সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ম্যাচ চলাকালীন গোলকিপার চোট পেয়ে মাঠে শুয়ে থাকলে আউটফিল্ডের খেলোয়াড়েরা সাইডলাইনে গিয়ে কোচের কাছ থেকে কৌশলগত পরামর্শ নেন। বহুল আলোচিত এই কৌশল এবার নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে।

ফিফার রেফারি প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনা টুর্নামেন্টের আগে ছয়টি নিয়ম পরিবর্তনের কথা প্রকাশ করেছেন। ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) তথাকথিত ‘ট্যাকটিক্যাল টাইমআউট’ নিষিদ্ধ করেছে। এত দিন দেখা যেত, খেলোয়াড়দের কোচের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে কৌশলগতভাবে গোলকিপার মাঠে শুয়ে পড়তেন এবং ফিজিওর সেবা নিতেন। সেই ফাঁকে বাকি খেলোয়াড়েরা সাইডলাইনে কোচের কাছে ছুটে যেতেন।

এই ‘ট্যাকটিক্যাল টাইমআউটে’ কোচের নির্দেশনা নেওয়া শেষ হলেই গোলকিপার আবার উঠে খেলা শুরু করতেন। এর একটি বড় উদাহরণ দেখা গিয়েছিল গত নভেম্বরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। তখন লিডস ইউনাইটেডের কোচ ড্যানিয়েল ফারকে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ম্যাচের এক গোলকিপারের বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে খেলা নষ্ট করার জন্য চোটের ভান করার অভিযোগ তুলেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নারীদের পেশাদার লিগ (এনডব্লিউএসএল) চলতি বছরের শুরুর দিকে এর একটি অস্থায়ী সমাধান নিয়ে আসে, যা এবার বিশ্বকাপে হুবহু কার্যকর করা হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গোলকিপার চোট পেলে উভয় দলের খেলোয়াড়দের হয় নিজেদের অবস্থানে থাকতে হবে, নয়তো সেন্ট্রাল সার্কেলের (মাঠের মাঝখানের বৃত্তে) ভেতরে জড়ো হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সাইডলাইনে যাওয়া যাবে না।

মাঠে এই নিয়ম বজায় রাখার দায়িত্ব থাকবে রেফারিদের ওপর। তবে কোলিনা স্পষ্ট করেছেন, কোনো খেলোয়াড় যদি কোচের সাথে কথা বলতে সাইডলাইনে যাওয়ার চেষ্টাও করে, তবে তাকে হলুদ কার্ড বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে না। তবে সব দলই এই নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকে অবগত থাকবে।

অবশ্য এই নিয়মটি সমস্যার কেবল আংশিক সমাধান করতে পারবে। কারণ, গোলকিপারদের ইচ্ছাকৃতভাবে শুয়ে পড়ে প্রতিপক্ষের খেলার গতি (মোমেন্টাম) নষ্ট করার প্রবণতা এটি পুরোপুরি থামাতে পারবে না। তা ছাড়া, উত্তর আমেরিকার তীব্র গরমের কারণে এবারের বিশ্বকাপে এমনিতেই প্রতি অর্ধে তিন মিনিটের একটি করে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ (পানি পানের বিরতি) থাকবে। ফলে কোচরা এমনিতেই কৌশল আলোচনার জন্য একটা প্রাকৃতিক টাইমআউট পেয়ে যাবেন।

কোলিনা বলেন, ‘মাঠে শুধু রেফারি, ফিজিও আর গোলকিপার থাকবে-বাকি সব খেলোয়াড় মাঠের বাইরে চলে যাবে, বিষয়টা দেখতে বেশ অদ্ভুত লাগে এবং এটি ফুটবলের জন্য মোটেও ভালো কিছু নয়।’

খেলায় গতি বাড়াতে এবং দলগুলোর সময় নষ্ট করার প্রবণতা কমাতে আরও ৫টি নিয়ম পরিবর্তন করা হচ্ছে। কোলিনা আশা করছেন, এই নিয়মগুলো ২০২২ বিশ্বকাপের মতো অতিরিক্ত ইনজুরি টাইম বা স্টপেজ টাইম হওয়ার রেকর্ড কমিয়ে আনবে।

থ্রো-ইন কাউন্টডাউন (৫ সেকেন্ড): কোনো খেলোয়াড় যদি থ্রো-ইন করার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করে, তবে রেফারি প্রতিপক্ষ দলকে থ্রো-ইনের সুযোগ দিয়ে দেবেন।,

গোল-কিক কাউন্টডাউন (৫ সেকেন্ড): সময় নষ্ট করার উদ্দেশ্যে গোল-কিক নিতে দেরি করলে প্রতিপক্ষ দলকে কর্নার কিক পুরস্কার দেওয়া হতে পারে।

বদলি খেলোয়াড়দের জন্য সময়সীমা (১০ সেকেন্ড): মাঠ থেকে উঠে যাওয়া খেলোয়াড়কে সবচেয়ে কাছের সাইডলাইন দিয়ে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হবে। যদি তিনি এতে ব্যর্থ হন, তবে বদলি হিসেবে আসা নতুন খেলোয়াড় পরবর্তী ১ মিনিটের আগে মাঠে নামতে পারবেন না এবং ওই ১ মিনিট দলকে ১০ জন খেলোয়াড় নিয়েই খেলতে হবে।

মাঠের বাইরে চিকিৎসা (১ মিনিট): কোনো খেলোয়াড় যদি মাঠের ভেতর ফিজিওর চিকিৎসা নেন, তবে তাকে পরবর্তী ৬০ সেকেন্ড মাঠের বাইরে অপেক্ষা করতে হবে। তবে গোলকিপারের চোট এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ফাউল করে হলুদ বা লাল কার্ড পেলে এই নিয়মে ছাড় দেওয়া হবে।

খেলোয়াড়দের মুখ ঢেকে রাখা: প্রতিপক্ষের সাথে কোনো উগ্র বা তর্কাতর্কির মুহূর্তে কোনো খেলোয়াড় যদি হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বলেন, তবে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের এক ম্যাচে বেনফিকার উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি এবং রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মধ্যকার বিতর্কের জেরে এই নিয়মটি আনা হচ্ছে। প্রেস্তিয়ানি মুখ ঢেকে ভিনিসিয়ুসকে কিছু বলেছিলেন, যার পর ভিনিসিয়ুস তার বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ তোলেন। বর্ণবাদের বিষয়টি প্রমাণ করা না গেলেও উয়েফা প্রেস্তিয়ানিকে সমকামী বিদ্বেষী আচরণের জন্য ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয়।

কোলিনা বলেন, ‘কথা যদি বন্ধুত্বপূর্ণ হয়, তবে মুখ ঢাকলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত বা মারমুখী, তখন মুখ ঢাকার মানেই হলো আপনি সম্ভাব্য খুব খারাপ কিছু করছেন। আর এর শাস্তি হবে সরাসরি লাল কার্ড।’

ভিএআর যেভাবে আলাদা হবে: বিশ্বকাপে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রোটকলেও কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। কর্নার বা ফ্রি-কিকের মতো সেট-পিসগুলোতে বল লাইনে আসার ঠিক আগমুহূর্তে কোনো ফাউল হলে এখন ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে। আক্রমণভাগের কোনো দল যদি বল মাঠে গড়ানোর আগে এমন কোনো ফাউল করে যার সরাসরি প্রভাব গোল, পেনাল্টি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ওপর পড়ে, তবে ভিএআর রেফারিকে সিদ্ধান্ত পুনর্দক্ষতার সুযোগ দেবে।



banner close
banner close