আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তীব্র তাপমাত্রা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে এই মাসেই শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের ১৬টি স্টেডিয়ামের মধ্যে ১৪টিতেই অসহনীয় তাপের শিকার হতে পারেন ফুটবলাররা।
জলবায়ু বিষয়ক স্বাধীন অলাভজনক গবেষণা সংস্থা ক্লাইমেট সেন্ট্রালের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, টুর্নামেন্টের মোট ১০৪টি নির্ধারিত ম্যাচের মধ্যে ৯৭টিতেই ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার কারণে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, এই তাপমাত্রায় স্প্রিন্টের হার, মোট দূরত্ব অতিক্রম এবং পুনরুদ্ধারের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এতে খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ম্যাচের গতি, কৌশল এবং সামগ্রিক খেলার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রায় অর্ধেক ম্যাচে পারফরম্যান্সবিরোধী তাপের ন্যূনতম ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে ২৬টি ম্যাচে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই সম্ভাবনা কমপক্ষে ১০ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ম্যাচটি হবে ২৬ জুন মেক্সিকোর গুয়াদালাজারায়, যেখানে উরুগুয়ে ও স্পেনের মধ্যে নির্ধারিত খেলায় পারফরম্যান্স ক্ষতিগ্রস্তকারী তাপমাত্রার সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ, যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ফাইনাল ম্যাচেও পারফরম্যান্সবিরোধী তাপের ৪৭ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
পরিবেশগত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাইক টিপটন জানান, ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় খেলা পরিচালনা করলে মূল খেলার চরিত্রই পালটে যায়। তিনি বলেন, মাঠে তীব্রতা হ্রাস, স্প্রিন্টিং কমে যাওয়া এবং সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা হ্রাস পাওয়া স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংস্পর্শ ও পানিশূন্যতার কারণে তাপজনিত ক্লান্তি এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।
নরওয়ের জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় মর্টেন থর্সবি জানান, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা কেবল স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নয়, এটি খেলার মানকেও সরাসরি প্রভাবিত করছে। তিনি এই উদ্বেগ জানিয়ে ফিফার কাছে খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে একটি চিঠিতে সই করেছেন বলেও জানান।
ক্লাইমেট সেন্ট্রালের আবহাওয়াবিদ শেল উইঙ্কেলি জানান, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার অব্যাহত থাকলে পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে অভিযোজনই ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় মূল নির্ধারক হয়ে উঠবে।
আমেরিকান মেটিওরোলজিকাল সোসাইটির সদস্য জন টুহি-মোরালেস জানান, একজন গড়মানের মিডফিল্ডার প্রতিটি ম্যাচে ছয় মাইলের বেশি দৌড়ান। তাপমাত্রা বৃদ্ধি এই অভিজাত অ্যাথলেটদের সহনক্ষমতার সীমা পরীক্ষা করবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বিশ্বকাপে মুম্বাইয়ের তীব্র গরমে দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার কুইন্টন ডি কক ১৭৪ রানের ইনিংস খেলার পরেও পেশিতে টান ধরায় পরবর্তী ইনিংসে উইকেটরক্ষণ করতে পারেননি, যা তাপমাত্রার প্রভাবে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা হ্রাসের একটি প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন।
আরও পড়ুন:








