আড়াইশো কোটি টাকার শেয়ার কারসাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ ১৫ আসামির বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করেছে।
দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা সম্প্রতি বিএসইসিতে গিয়ে এ-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেন।
গত বছরের জুনে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাকিব আল হাসান ও তাঁর সহযোগীরা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করে মোট ২৫৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। এর মধ্যে সাকিবের বিরুদ্ধে সরাসরি ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে আলোচিত কারসাজিকারী আবুল খায়ের হিরুর মাধ্যমে সাকিব প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। পরে তিনি সক্রিয়ভাবে বাজার কারসাজিতে যুক্ত হয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রতারণা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেয়ার কেলেঙ্কারির বিষয়টির পাশাপাশি দুদক সাকিবের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগেও আলাদাভাবে নথিপত্র সংগ্রহ করছে।
এদিকে সাকিব আল হাসান সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুই বছর ধরে কেউ কিছু প্রমাণ করতে পারেনি। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, আর কিছু না পেলে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হোক।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ প্রসঙ্গে সাকিব জানান, অ্যাকাউন্ট চালু হলে চেক বাউন্সের মামলায় পাওনা টাকা পরিশোধ করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হতো। তিনি বলেন, দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে তদন্ত চলছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই পাওয়া যায়নি এবং ভবিষ্যতেও পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
উল্লেখ্য, শেয়ার কারসাজির তদন্তের পাশাপাশি সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা ও একটি চেক বাউন্সের মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। তদন্ত এখনো চলমান।
আরও পড়ুন:








