বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলা থেকে নাম প্রত্যাহারের বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল।
প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব এ তথ্য জানান। সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রকাশিত হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সারা দেশে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় সাকিব আল হাসানের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য।
সাকিব বলেন, একটি পক্ষ তার কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল যে, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিলে মামলার তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি আরও জানান, যারা এ প্রস্তাব দিয়েছে তাদের ধারণা ছিল না যে, মামলা দায়ের হয়ে যাওয়ার পর শুধু বাদীপক্ষের ইচ্ছায় নাম প্রত্যাহার সম্ভব নয়। এ বিষয়টি পুলিশের তদন্তের উপর নির্ভর করবে।
প্রস্তাবটি ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্টে (এফআইআর) বাদীপক্ষের যোগাযোগের জন্য উল্লেখিত ব্যক্তির মাধ্যমে কয়েকজনের কাছ থেকে এসেছে বলে সাকিব উল্লেখ করেন। তবে তিনি বিস্তারিত নাম প্রকাশ করেননি।
প্রস্তাব পাওয়ার পর তার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সাকিব বলেন, টাকা দিয়ে এ ধরনের সমস্যা সমাধানের প্রয়োজন নেই। এতে বোঝা যায় যে তার সমস্যা আছে এবং তিনি বাঁচতে চান।
দেশে ফেরা প্রসঙ্গে সাকিব জানান, আইনগত কোনো বাধা নেই। তবে তিনি স্বাভাবিক নিরাপত্তা এবং দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তিনি গ্রেপ্তারের ভয় করেন না, তবে মব ভায়োলেন্স বা ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে অপ্রত্যাশিত ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ক্রিকেটে ফেরা নিয়ে সাকিব বলেন, তিনি এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাটে অবদান রাখার মতো অবস্থায় আছেন। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করতে চান এবং এক-দুটি সিরিজ খেলে নিজের অবস্থান যাচাই করতে চান।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, এলাকার ভোটাররাই তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন। তিনি মনে করেন, রাজনীতির মাধ্যমে দেশের পরিবর্তন সম্ভব, যদিও অনেকে এটাকে সুবিধা নেওয়ার জায়গা হিসেবে দেখেন।
আরও পড়ুন:








