২০২৬ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি। এ সিদ্ধান্তে সরকারের নির্দেশনা, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে দায় কার, তা নির্ধারণে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শিগগিরই একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই, বিশ্বকাপে না যাওয়ার প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসুক এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে।”
সিদ্ধান্তের পটভূমি
গত ৩ জানুয়ারি আইপিএল থেকে পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ওই দিনই বিসিবির এক জরুরি অনলাইন বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং পরদিন আইসিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে একই রাতে তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তা ইস্যু তুলে ধরে বাংলাদেশ দলের ভারতে না যাওয়ার পক্ষে মত দেন। পরবর্তী সময়ে ১৩ জানুয়ারি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে বিসিবিকে পাঠানো এক চিঠিতে ভারতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব উত্থাপনের কথা বলা হয়।
চিঠিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।
বিসিবির অবস্থান ও সমালোচনা
তৎকালীন বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ, সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল-এর নেতৃত্বে, বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় খেলার পক্ষে অবস্থান নেয়। তবে আইসিসির অন্যান্য সদস্য দেশকে রাজি করাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ অংশগ্রহণের সুযোগ হারায়।
বোর্ডের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার অভিযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি এবং ক্রীড়া কূটনীতিতেও ঘাটতি ছিল। আবার অন্য একটি অংশের মতে, সরকারের নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার সুযোগও বিসিবির ছিল না।
ভিন্নমত ও বিতর্ক
বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, নিরাপত্তা বিবেচনায় সরকারের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক ছিল। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ নষ্ট হয়েছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।
বিসিবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অধিকাংশ পরিচালক বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পক্ষে ছিলেন। তবে সরকারের অনুমতি ছাড়া তা সম্ভব ছিল না।
তদন্তের অগ্রগতি
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ব্যস্ততার কারণে এখনো তদন্ত কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। তবে খুব দ্রুতই এ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তিনি বলেন, “কার দোষ, কী শাস্তি—এসব পরে দেখা যাবে। আগে প্রকৃত ঘটনা জানা জরুরি।”
ভবিষ্যৎ ভাবনা
এদিকে, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও বাংলাদেশ দল ইতোমধ্যে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অতীতের এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেসমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:








