সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে উইকেটের আচরণ। বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ শন টেইট বলছেন, বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলার অন্যতম চ্যালেঞ্জই হলো উইকেট ঠিকভাবে বোঝা। চলমান বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ–এর প্রথম দুই ম্যাচেই তার প্রমাণ মিলেছে।
প্রথম ওয়ানডেতে যেখানে স্পিন সহায়ক ও অসম বাউন্সের উইকেট দেখা গেছে, দ্বিতীয় ম্যাচে সেখানে পেসারদের দাপট ছিল স্পষ্ট। এমন বৈচিত্র্য দুই দলের জন্যই বাড়িয়ে দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে আজ চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম–এ তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে একাদশ সাজানোর আগে উইকেট বোঝাটাই হয়ে উঠেছে বড় চ্যালেঞ্জ।
দুই বছরের বেশি সময় পর এই ভেন্যুতে ওয়ানডে ফিরছে। এর মধ্যে এখানে শুধু টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি হয়েছে। তাই ওয়ানডের উইকেট কেমন আচরণ করবে, তা নিয়ে নিশ্চিত ধারণা নেই কারও। যদিও দুই দলই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উইকেট পর্যবেক্ষণে সময় দিয়েছে।
শন টেইটের ধারণা, ঐতিহ্যগতভাবে চট্টগ্রামের উইকেট ব্যাটিং সহায়কই হয়ে থাকে। তবে মাঝে মাঝে বল নিচু থাকে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবুও উইকেট নিয়ে অতিরিক্ত বিশ্লেষণে না গিয়ে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ওপরই জোর দিয়েছেন এই অস্ট্রেলিয়ান কোচ।
তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেকোনো কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় ম্যাচের জয়ে পাওয়া আত্মবিশ্বাস ধরে রেখেই মাঠে নামতে চায় বাংলাদেশ।
ব্যাটিং ইউনিট নিয়েও আলোচনা রয়েছে। প্রথম ম্যাচে ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তানজিদ তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত ভালো করলেও অন্যরা সুযোগ পাননি। তাই চট্টগ্রামে ব্যাটারদের দিকে বাড়তি নজর থাকছে। তবে তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ দিতে রাজি নন টেইট।
এদিকে বোলারদের পারফরম্যান্স বেশ স্থিতিশীল। নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম নিয়মিতই ভালো করছেন। তাই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বোলিং আক্রমণে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
১-১ সমতায় থাকা সিরিজের শেষ ম্যাচে জয়ী দলই ট্রফি জিতবে। তাই উইকেটের আচরণ বুঝে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই নির্ধারণ করে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। এখন দেখার বিষয়, পরিচিত কন্ডিশনে বাংলাদেশ সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারে কি না।
আরও পড়ুন:








