বুধবার

১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ২ বৈশাখ, ১৪৩৩

ভারতীয় ‘প্রভুদের’ হাতে জিম্মি বিশ্ব ক্রিকেট?

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:২৮

আপডেট: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:২৯

শেয়ার

ভারতীয় ‘প্রভুদের’ হাতে জিম্মি বিশ্ব ক্রিকেট?
ছবি সংগৃহীত

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল)। নিলামে চড়া মূল্যে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভিড়িয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু এরপরই বাধে বিপত্তি। ভারতীয় উদ্র ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের আন্দোলনের মুখে মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেয় কেকেআর।

টাইগার পেসারকে বাদ দেওয়ার পর জল গড়িয়েছে অনেকদূর। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। ভারত থেকে সরিয়ে টাইগারদের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়ার দাবি করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কিন্তু বাংলাদেশের দাবিকে তুচ্ছ হিসেবে দেখে আইসিসি। দাবি না মেনে, উল্টো বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া হয় বিশ্বকাপ থেকে।

আইসিসির এমন আচরণের কারণ হিসেবে, অনেকেই বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় ভারতীয়দের আধিপত্যের কথা সামনে এনেছেন। আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ, প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তাসহ উচ্চপদস্থ প্রায় সব কর্মকর্তাই ভারতীয়। ফলে, আইসিসিতে ভারতীয়দের আধিপত্যই বেশি।

এবার একই কথা উঠে এলো ক্রিকেটের বাইবেল খ্যাত ‘উইজডেন’-এ। স্পোর্টস বিষয়ক এই সাময়িকীটির সম্পাদক লরেন্স বুথ ক্রিকেটে ভারতীয় আধিপত্য ও ক্রিকেটীয় রাজনীতির কড়া সমালোচনা করেছেন।

বুথ লিখেছেন, ‘এটি ছিল বাংলাদেশে একজন হিন্দু হত্যার প্রতিশোধ এবং কেকেআরের মালিক বলিউড তারকা শাহরুখ খানের প্রতি একটি সতর্কবার্তা—যিনি একজন মুসলিম এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু। ক্রিকেটের রাজনৈতিক প্রভুদের হাতে মুস্তাফিজুরের ভাগ্য পতন হয়েছে।’

মুস্তাফিজকে না খেলানোর কারণ হিসেবে, সামনে আসে নিরাপত্তা ইস্যু। কারণ ভারতীয়রা নিয়মিত হুমকি দিচ্ছিল কাটার মাস্টারকে। সেই নিরাপত্তা শঙ্কার কারণেই শ্রীলঙ্কায় খেলার আবেদন করেছিল বাংলাদেশ। ঠিক যেমন, ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ভারত।

সেময় ভারতের দাবি অবশ্য মেনে নেওয়া হয়েছিল। তাদের ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল দুবাইয়ে। সেই বিষয়টিকে সামনে এনেছেন, উইজডেন সম্পাদক বুথ। ভারতীয়দের এই দ্বি-নীতি আচরণের সমালোচনা করেছেন তিনি।

বুথ লিখেছেন, ‘২০২৫ সালে যখন ভারত পাকিস্তানে গিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে অস্বীকার করে এবং দুবাইয়ে তাদের সব ম্যাচ খেলার জেদ ধরে, তখন আইসিসি তাদের সুযোগ করে দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বের করে দেওয়া হলো—যদিও তারা সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল।’

ভারতীয় সমর্থকদের সমালোচনা করে বুথ লিখেছেন, ‘ভারতীয় সমর্থকরা দ্রুত এই দুই ঘটনার সমতা অস্বীকার করে যুক্তি দেন যে, বিসিসিআই আইসিসিকে বাংলাদেশ বোর্ডের চেয়ে অনেক আগে নোটিশ দিয়েছিল—যেন এর জন্য তাদের পিঠ চাপড়ে দেওয়া উচিত।’



banner close
banner close