বৃহস্পতিবার

৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২৬ চৈত্র, ১৪৩২

এমপিপুত্ররা যেভাবে বিসিবিতে

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:১৭

শেয়ার

এমপিপুত্ররা যেভাবে বিসিবিতে
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটিতে এমপি ও মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ঘোষিত ১১ সদস্যের এই কমিটিতে চারজন সদস্যের পারিবারিক পরিচয় ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের অন্তর্ভুক্তি হয়েছে নিয়ম অনুযায়ী এবং ক্রিকেট-সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে।

ঘোষিত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত চারজন হলেন মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু এবং ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তাদের মধ্যে প্রথম তিনজন বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সন্তান এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ক্লাবের মাধ্যমে ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত। তারা বিসিবির কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অন্যদিকে, রাশনা ইমাম নারী কোটায় মনোনীত হয়েছেন।

এই নিয়োগকে ঘিরে জাতীয় সংসদে সমালোচনা উত্থাপিত হয়। একাধিক সদস্য বিষয়টিকে পারিবারিক প্রভাবের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এর প্রেক্ষিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে।

তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান জানান, সংশ্লিষ্ট তিনজনকে বিসিবির বৈধ কাউন্সিলর তালিকা থেকে নির্বাচন করা হয়েছে। তার মতে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্লাব পর্যায়ে ক্রিকেট কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকায় যোগ্যতার ভিত্তিতেই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। নারী সদস্য হিসেবে রাশনা ইমামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে নির্ধারিত কোটার আওতায়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে এই তিনজনই তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন প্যানেল থেকে পরিচালক পদে প্রার্থী ছিলেন। সে সময় তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তারা নির্বাচন বর্জন করেন।

এ বিষয়ে কমিটির সদস্যদের কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সদস্য জানান, তারা অভ্যন্তরীণভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করার চেষ্টা করছেন।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান মনে করেন, অ্যাডহক কমিটির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত গঠনতন্ত্র সংশোধন ও নির্বাচন আয়োজন। তার মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আগে থেকেই ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত বিতর্ক প্রয়োজন নেই।

অন্যদিকে, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়া কোনো ব্যক্তির ক্রিকেট সংগঠক হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না। তার মতে, সংশ্লিষ্টরা কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই মনোনীত হয়েছেন।

নিয়ম অনুযায়ী, এই অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ ৯০ দিন। এই সময়ের মধ্যে গঠনতন্ত্র সংশোধন, কাউন্সিলর তালিকা চূড়ান্তকরণ এবং নির্বাচন আয়োজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে কমিটিকে। ফলে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



banner close
banner close