মিরপুরে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ২৭৯ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস। ফলে ২–১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় স্বাগতিকরা।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার দাপুটে বোলিংয়ে মাত্র ১৭ রানে প্রথম তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে (৬) ফেরান তাসকিন। পরের ওভারে নাহিদ রানা আউট করেন মাজ সাদাকাতকে (৬)। নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (৪) ফিরিয়ে দেন তাসকিন।
চাপে পড়া পাকিস্তানের হয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন গাজি ঘোরি ও আব্দুল সামাদ। তবে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তারা। ঘোরি ৩৯ বলে ২৯ এবং সামাদ ৪৫ বলে ৩৪ রান করে আউট হন।
একশর আগেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে পাকিস্তান। এ সময় দলের হাল ধরেন সালমান আলি আগা। তাকে সঙ্গ দেন অভিষিক্ত ব্যাটার সাদ মাসুদ। দুজন মিলে ৭৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। তবে ৩৮ রান করা মাসুদকে দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড করেন মুস্তাফিজুর রহমান।
এরপর ফাহিম আশরাফকে (৯) বোল্ড করে ফেরান তাসকিন আহমেদ। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান সালমান আলি আগা। অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পাকিস্তানকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান। অর্ধশতকের পর তুলে নেন সেঞ্চুরিও। শেষ পর্যন্ত ১০৬ রান করে আউট হন সালমান।
৪৯তম ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে আশা জাগিয়েছিলেন শাহীন আফ্রিদি। তবে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য ছোঁয়া হয়নি পাকিস্তানের। শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ৩৭ রান করেন তিনি।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। মুস্তাফিজুর রহমান তিনটি এবং নাহিদ রানা দুটি উইকেট নেন। একটি উইকেট পান রিশাদ হোসেন।
এর আগে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ১০৫ রান তুলে দারুণ সূচনা পায় বাংলাদেশ।
১৯তম ওভারে শাহীন আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাইফ হাসান। আউট হওয়ার আগে ৫৫ বলে ৩৬ রান করেন তিনি। এরপর বড় ইনিংস খেলতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। হারিস রউফের বলে আউট হওয়ার আগে করেন ২৭ রান।
তবে অভিষেক সেঞ্চুরি তুলে নেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ৯৮ বলে শতক পূরণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১০৭ বলে ১০৭ রান করে আউট হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা।
চতুর্থ উইকেটে লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয় ৬৮ রানের জুটি গড়ে দলের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। লিটন ৪১ রান করে আউট হন। আর ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তাওহীদ হৃদয়। তিনি ৪৪ বলে ৪৮ রান করেন। আফিফ হোসেন অপরাজিত থাকেন ৫ রানে।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন হারিস রউফ। আবরার আহমেদ ও শাহীন শাহ আফ্রিদি একটি করে উইকেট পান।
আরও পড়ুন:








