চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। কিছুদিন আগে আসন্ন এই মেগা ইভেন্টের টিকিটের দাম প্রকাশ করেছিল ফিফা। যা অন্য যে কোনো আসরের চাইতে অনেক বেশি। এ নিয়ে কম সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়নি। এরই মধ্যে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দাবি, বিশ্বকাপ নিয়ে ‘অবিশ্বাস্য’ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে নাকি ১০৪টি ম্যাচের সব টিকিটই বিক্রি হয়ে গেছে!
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্ট থেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সিএনবিসিকে ইনফান্তিনো জানান, প্রায় ৭০ লাখ টিকিটের বিপরীতে চার সপ্তাহে ৫০৮ মিলিয়ন তথা ৫০ কোটি ৮০ লাখ টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে। তিনি বলেন, জানুয়ারিতে মূল বিক্রয় পর্বে ২০০টিরও বেশি দেশ থেকে আবেদন এসেছে। যদিও তার এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
সমালোচকদের একাংশের প্রশ্ন—এত বিপুল আবেদন কি ‘বট’ বা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে এসেছে কি না? ফিফা সেই অভিযোগ নাকচ করে বলেছে, প্রতিটি আবেদনই “স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা হয়েছে।”
প্রথমবারের মতো ইনফান্তিনো বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি নিয়ে তথ্য দিলেও কোন ম্যাচে কত আবেদন পড়েছে—সেই পূর্ণ চিত্র পরিষ্কার করেননি। তার দাবি, “প্রতিটি ম্যাচই ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। যদিও পরে ফিফার একটি সূত্র জানায়, ইনফান্তিনো আসলে বলতে চেয়েছেন—সব ম্যাচই বিক্রি হয়ে যাবে বলে তাদের প্রত্যাশা। কিছু টিকিট শেষ মুহূর্তের বিক্রির জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
“এ রকম কিছু আমরা আগে কখনও দেখিনি, অবিশ্বাস্য,” বলেন ইনফান্তিনো। তিনি জানান, এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত চলবে এমন শেষ মুহূর্তের বিক্রয়ের জন্য কিছু টিকিট সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭–১৮ কোটি। অর্থাৎ ফিফা সভাপতির বক্তব্য ঠিক থাকলে আসন্ন বিশ্বকাপের টিকিট আবেদন এসেছে বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় তিন গুণের কাছাকাছি।
এদিকে, সমর্থক সংগঠনগুলো টিকিটের দামকে “অতিরিক্ত” বলে উল্লেখ করেছিল এবং পুনঃবিক্রয় সাইটগুলোতে ইতোমধ্যে রেকর্ড দামে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়েও কথা বলেন ইনফান্তিনো। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় এটি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজন হওয়ার কারণেই এমন হচ্ছে।
সবাই বিশেষ কিছুর অংশ হতে চায়। টিকিটের দাম নির্ধারিত আছে, তবে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ নামে একটি ব্যবস্থা আছে, অর্থাৎ দাম বাড়তেও পারে, কমতেও পারে। আপনারা অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম বা সেকেন্ডারি মার্কেটে টিকিট পুন:বিক্রি করতে পারেন, ফলে দাম বাড়তে পারে। এটাই আমাদের বাজার ব্যবস্থার অংশ।”
ইনফান্তিনো ধারণা দেন, প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় হবে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি। তিনি বলেন, এই অর্থের প্রতিটি ডলার ফিফার ২১১টি সদস্য দেশে ফুটবল উন্নয়নে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে।
তিনি জানান, বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে পর্যটন, হোটেল-রেস্টুরেন্ট খাত, নিরাপত্তা বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের প্রভাব ফেলবে।” ইনফান্তিনোর মতে, প্রায় ৭০ লাখ দর্শকের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ২ থেকে ৩ কোটি পর্যটক আকর্ষণ করবে এবং সৃষ্টি করবে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার স্থায়ী কর্মসংস্থান।
আরও পড়ুন:








