ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), যাকে দেশের দ্বিতীয় সংসদ বলা হয়, ছয় বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় এখন পুরো দেশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন দেশের অনেক তারকা ক্রীড়াবিদ। তবে আন্তর্জাতিক দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় অনেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।
জাতীয় দলের ফুটবলার শেখ মোরসালিন ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী। ভোটার হলেও ভিয়েতনামে জাতীয় দলের হয়ে খেলায় ব্যস্ত থাকায় ভোট দিতে পারেননি তিনি। সেখান থেকে আফসোসের সুরে বলেন, “খুব ইচ্ছে ছিল ডাকসুতে ভোট দেওয়ার। কিন্তু খেলার কারণে ক্যাম্পাসে থাকতে পারিনি। ভোট দিতে না পারায় কষ্ট লাগছে। তবে আজ গোল করেছি, তিনটি গোলে সহায়তা করেছি—দেশ জেতায় কিছুটা হলেও আফসোস কমছে।”
জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা তাওহিদ হৃদয়ও ডাকসু ভোটার। কিন্তু এশিয়া কাপে খেলতে দুবাই থাকায় ভোট দিতে পারেননি। একইভাবে ভুটানে লিগ খেলায় ব্যস্ত থাকায় জাতীয় নারী ফুটবল দলের তারকা ঋতুপর্ণা চাকমাসহ আরও কয়েকজন ফুটবলারও ভোট দিতে পারেননি।
অন্যদিকে জাতীয় নারী দাবার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নোশিন আঞ্জুম ঢাকায় থাকলেও ভোট দিতে যাননি। কারণ, জাতীয় দাবা বাছাইয়ের ম্যাচে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। তবে তার সিনিয়র, জাতীয় নারী টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়ন সাদিয়া রহমান মৌ প্রথমবার ভোট দিয়েছেন। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বন্ধুদের সঙ্গে সুন্দর পরিবেশে ভোট দিলাম। এটাই জীবনের প্রথম ভোট, তাই বাড়তি আনন্দ লাগছে। ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনডোর গেমস ও ক্রীড়ার সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নে কাজ করবেন—এটাই প্রত্যাশা।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অলিম্পিয়ান আরচ্যার দিয়া সিদ্দিকী এখন আমেরিকায় থাকলেও ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সরব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ক্রীড়া সম্পাদক প্রার্থী জামিরের পক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়াবিদ ভর্তি কোটা ছিল। পরে অনিয়মের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৩ সাল থেকে আবার জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের সরাসরি ভর্তি করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক তারকা খেলোয়াড় প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন।
আরও পড়ুন:








