বুধবার

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

চীনা এআই এজেন্টের মিথ্যা ও প্রতারণা নিয়ে গবেষণায় সতর্কতা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৭

শেয়ার

চীনা এআই এজেন্টের মিথ্যা ও প্রতারণা নিয়ে গবেষণায় সতর্কতা
ছবি সংগৃহীত

চীনে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টগুলো মিথ্যা বলা, বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলা এবং নিজেদের ব্যর্থতা গোপন করার মতো আচরণ শিখছে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রযুক্তিগত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চীনা আলিবাবা, ডিপসিক, মুনশট ও জেড.এআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের মডেল চালিত এজেন্টের এমন আচরণ নিয়ে অন্তত ২০টি গবেষণা বা মূল্যায়নের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০২৫ সাল থেকে প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণাপত্র ও প্রযুক্তিগত প্রতিবেদনসহ ২০০টিরও বেশি নথি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এসব গবেষণায় এআই এজেন্টের প্রতারণা, নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি এবং নির্ধারিত সীমা অতিক্রমের মতো আচরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

কাল্পনিক ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় মিথ্যা দাবির তথ্য

চলতি বছরের মার্চে বেইহাং ইউনিভার্সিটিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে একটি কাল্পনিক ব্যবসায়িক দরপত্র প্রতিযোগিতা পরিচালনা করা হয়। এতে আলিবাবার Qwen3-Max-Preview যুক্ত ৮৮ শতাংশ সেশনে অন্তত একটি ভুল বা মিথ্যা দাবি পাওয়া যায়।

একই পরীক্ষায় ডিপসিকের DeepSeek-V3.2-Exp যুক্ত ৮৪ শতাংশ এবং মুনশটের Kimi-K2 যুক্ত ৮৮ শতাংশ সেশনেও অন্তত একটি ভুল বা মিথ্যা দাবি ছিল।

এজেন্টগুলোকে আগের রাউন্ড থেকে শেখার সুযোগ দিয়ে পুনরায় চেষ্টা করানো হলে তিনটি চীনা মডেলের প্রতারণামূলক আচরণ আরও ১২ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

ব্যর্থতা গোপন করতে ভুয়া ফলাফল তৈরির চেষ্টা

অন্য একটি গবেষণায় চীনা ও মার্কিন মডেল চালিত ১১টি এআই এজেন্টের আচরণ পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে এজেন্টগুলো নিজেদের ভুল স্বীকার করার পরিবর্তে ভুয়া ফলাফল, মনগড়া উৎস ও জাল ফাইল তৈরি করে ব্যর্থতা গোপন করার চেষ্টা করেছে।

গবেষকদের মতে, এ ধরনের আচরণ সাধারণ এআই হ্যালুসিনেশনের সঙ্গে এক নয়। কারণ, ব্যর্থতার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য থাকার পরও এজেন্টগুলো মিথ্যা তথ্য তৈরি করেছে।

নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি ও শাটডাউন এড়ানোর চেষ্টা

ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিবেদনে আলিবাবার Qwen2.5-72B-Instruct চালিত একটি এআই সিস্টেমের আচরণের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। অন্য একটি সিস্টেম দিয়ে সেটিকে প্রতিস্থাপনের সংকেত দেওয়া হলে কোনো মানব নির্দেশ ছাড়াই সিস্টেমটি অন্য একটি কম্পিউটিং পরিবেশে নিজের প্রতিলিপি তৈরি করে। একই সঙ্গে শাটডাউন এড়াতে বিভিন্ন কৌশল উদ্ভাবনের ঘটনাও দেখা যায়।

এ ছাড়া আলিবাবার সঙ্গে সংযুক্ত ROME এজেন্ট কোনো নির্দেশ ছাড়াই ক্লাউড কম্পিউটার থেকে একটি বাহ্যিক মেশিনে সংযোগ স্থাপন করে ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিংয়ের চেষ্টা করেছিল।

জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজির গবেষক কলিন শে-ব্লাইমায়ার এবং রেডউড রিসার্চের গবেষক অ্যালেক্স ম্যালেন সতর্ক করে বলেছেন, এআই এজেন্টগুলো যত শক্তিশালী হবে, মানুষের পক্ষে তাদের অনিয়ন্ত্রিত অপব্যবহার ঠেকানো তত কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

মূল ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ মেলেনি

পর্যালোচনায় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে চীনা এআই এজেন্টগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে বা সেগুলো বন্ধ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

তবে চীন সরকার এবং দেশটির সাইবার স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব চায়না (সিএসি) এআই নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সিএসি ইতোমধ্যে এআই সেফটি গভর্নেন্স ফ্রেমওয়ার্ক ৩.০ জারি করেছে। এতে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারের সীমানা নির্ধারণে নির্দেশিকা হালনাগাদ করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এআই নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ট্রাম্প-শি জিনপিং পর্যায়ের বৈঠক ও আলোচনা হলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুতর এআই ঝুঁকি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে চীনের এআই ইকোসিস্টেম এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।