সোমবার

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩

প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে বিস্কুট বানাচ্ছেন গবেষকরা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৭:৫৯

আপডেট: ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:০০

শেয়ার

প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে বিস্কুট বানাচ্ছেন গবেষকরা
ছবি সংগৃহীত

ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল ও কৃষিজ বর্জ্যকে প্রোটিনসমৃদ্ধ কুকিজে রূপান্তরের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা। নাসার নেতৃত্বে গভীর মহাকাশ অভিযানের জন্য খাদ্য তৈরির একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে খাদ্যসংকট মোকাবিলা ও প্লাস্টিক দূষণ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষকেরা নতুন এই খাবারের নাম দিয়েছেন ‘µBites’। এর প্রধান উপাদানের মধ্যে রয়েছে ফেলে দেওয়া পিইটি (PET) প্লাস্টিক (সাধারণত পানীয় ও পানির বোতল তৈরিতে যে প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়)। এর সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে ভুট্টার ডাঁটা ও পাতার মতো কৃষিজ বর্জ্য।

গবেষণা প্রক্রিয়ায় পানি ও অক্সিজেন ব্যবহার করে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের মাধ্যমে প্লাস্টিক ও উদ্ভিজ্জ বর্জ্যকে ভেঙে ক্ষুদ্র উপাদানে পরিণত করা হয়। পরে বিশেষভাবে প্রস্তুত অণুজীবের সাহায্যে এসব উপাদানকে প্রোটিন, চর্বি ও বিভিন্ন অ্যাসিডে রূপান্তর করা হয়।

এরপর থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে ওই মিশ্রণকে কুকিজের আকার দেওয়া হয়। কুকিজের স্বাদ ও পুষ্টিমান বাড়াতে আলাদাভাবে তৈরি ইস্টও ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষকদের তৈরি এক ধরনের ইস্ট উদ্ভিজ্জ বর্জ্য থেকে সরাসরি ভ্যানিলার স্বাদ তৈরি করতে পারে। অন্য একটি ইস্ট পিইটি প্লাস্টিকে থাকা ইথিলিন গ্লাইকোলকে বিটা-ক্যারোটিনে রূপান্তর করে। মানবদেহে বিটা-ক্যারোটিন ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তরিত হয়।

গবেষক দল জানিয়েছে, ‘µBites’ খাওয়ার উপযোগী কি না, সে বিষয়ে নিরাপত্তা পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাদ পরীক্ষার জন্য এখনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রকল্পটি। এর আগে পরিচালিত গন্ধ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সম্পদের সংকট রয়েছে-এমন পরিস্থিতিতে তারা এই কুকিজ খেতে রাজি।

গবেষক লাহিরু জয়াকোডি জানান, ভবিষ্যতে কুকিজে স্টার্চ, ফাইবার ও মিষ্টিকারক উপাদান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে এগুলো সাধারণ মানুষের খাওয়ার উপযোগী করে তোলার আশা করছেন তারা।

গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা শুধু মহাকাশ অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানবিক সংকটের সময় খাদ্যসংকট মোকাবিলা, সীমিত সম্পদের পরিবেশে খাবার উৎপাদন এবং প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর ক্ষেত্রেও এটি কাজে লাগতে পারে।,

বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে বর্জ্যকে পুষ্টিকর খাবারে রূপান্তরের এই প্রযুক্তিকে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন গবেষকরা। তাদের ধারণা, ভবিষ্যতে মানুষ যে বর্জ্য তৈরি করছে, অণুজীবের সাহায্যে সেটিকেই আবার খাদ্যের উপযোগী উপাদানে পরিণত করা সম্ভব হতে পারে। সূত্র: ফোর্বস