পুরোনো স্মার্টফোনের গতি কমে গিয়ে হ্যাং করছে? নতুন মোবাইল না কিনে এই সহজ সেটিংস ও টিপস কাজে লাগালেই ফোন চলবে একদম নতুনের মতো ঝড়ের গতিতে। তার জন্য যা করতে হবে-
পুরোনো স্মার্টফোন একটানা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে তার গতি কমে যাওয়া কিংবা মাঝেমধ্যে হ্যাং হওয়া অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয়। ডিভাইসে অজস্র অ্যাপস, জমা হওয়া ফাইল এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা নানা প্রক্রিয়ার কারণে প্রসেসরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। তবে নতুন হ্যান্ডসেট কেনার আগে কয়েকটি সহজ কৌশল কাজে লাগালে পুরোনো ফোনের কর্মক্ষমতা অনেকটাই আগের মতো ফিরিয়ে আনা সম্ভব।,
ফোনে এমন বহু অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করা থাকে যা মাসের পর মাস কোনও কাজেই লাগে না। এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় ভারী অ্যাপস বা গেম ব্যাকগ্রাউন্ডে গোপনে সক্রিয় থেকে ফোনের র্যাম ও ব্যাটারির অপচয় ঘটায়। তাই ডিভাইসের ওপর থেকে বাড়তি চাপ কমাতে অবিলম্বে অব্যবহৃত অ্যাপসগুলো চিহ্নিত করে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা উচিত।
ফোনের অভ্যন্তরীণ মেমোরি বা ইন্টারনাল স্টোরেজ প্রায় সম্পূর্ণ ভরে গেলে অপারেটিং সিস্টেমের স্বাভাবিক কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে ছবি, ভিডিও, ডাউনলোড করা ভারী ফাইল বা অপ্রয়োজনীয় নথি মুছে ফোন মেমোরিতে পর্যাপ্ত জায়গা খালি রাখা প্রয়োজন। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ক্লাউড স্টোরেজ অথবা মেমোরি কার্ডে ব্যাকআপ হিসেবে সরিয়ে রাখলে ফোন অনেক হালকা থাকে।
প্রতিটি অ্যাপ্লিকেশন নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ডিভাইসের অভ্যন্তরে প্রচুর অস্থায়ী ডেটা বা ক্যাশ ফাইল জমা হতে শুরু করে। সেটিংসে গিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপের ক্যাশ পরিষ্কার করলে ফোনের ইন্টারনাল মেমোরি খালি হয় এবং প্রক্রিয়াকরণের গতি দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে অ্যাপ্লিকেশন ক্লিয়ার ডেটা করার সময় সতর্ক থাকা উচিত, কারণ এতে লগইন তথ্য মুছে যেতে পারে।,
ডিসপ্লেতে চলমান লাইভ ওয়ালপেপার, অতিরিক্ত উইজেট এবং আকর্ষণীয় অ্যানিমেশন পুরনো প্রসেসরের ওপর প্রচণ্ড কাজের চাপ সৃষ্টি করে। ফোনের ডিসপ্লে সাধারণ রাখা এবং ডেভেলপার অপশন থেকে ট্রানজিশন অ্যানিমেশন স্কেল কমিয়ে দিলে হ্যান্ডসেট তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত কাজ করা শুরু করে। এক সঙ্গে একাধিক ভারী কাজ না করে অব্যবহৃত ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ্লিকেশন বন্ধ রাখাও জরুরি।,
স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশনের লেটেস্ট সফটওয়্যার আপডেট রয়েছে কিনা তা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি প্রায়ই সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে ফোনের পুরনো বাগ ও সিস্টেমের পারফরম্যান্সের দুর্বলতা ঠিক করে দেয়। প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক বা দু’বার ফোন রিস্টার্ট করলে ডিভাইসের মেমোরি রিফ্রেশ হয়ে যায়।
সবগুলো উপায় প্রয়োগ করার পরেও যদি ফোনের কার্যক্ষমতা আশানুরূপ না হয়, তবে ফ্যাক্টরি ডেটা রিসেট করতে পারেন। এটি ফোনকে একদম প্রাথমিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে এবং সমস্ত ত্রুটিপূর্ণ ফাইল এক লহমায় স্থায়ীভাবে মুছে দেয়। তবে এই পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ডিভাইসের সমস্ত দরকারি তথ্যের পূর্ণাঙ্গ ব্যাকআপ সংগ্রহ করে রাখা আবশ্যক।
অনেক সময় দীর্ঘদিনের পুরোনো ব্যাটারি দুর্বল হয়ে পড়লেও স্মার্টফোনের পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে যেতে শুরু করে। সিস্টেমের যাবতীয় কৌশল কাজে লাগানোর পরেও সমস্যা না মিটলে সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে হার্ডওয়্যার পরীক্ষা করানোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সঠিক সময় ব্যাটারি বদল বা অভ্যন্তরীণ মেরামতের মাধ্যমেই পুরোনো হ্যান্ডসেট আবারও দীর্ঘদিন মসৃণভাবে সচল রাখা যায়।,
আরও পড়ুন:







