চীনের জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম বিলিবিলি এবার বৈশ্বিক বাজারে বড় পরিসরে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউটিউবের বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক অ্যাপ পুনরায় চালু করেছে। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষার ওয়েবসাইট চালুর পরিকল্পনাও করছে তারা।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম সেমাফোরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিলিবিলি যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ইউরোপসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশে কর্মী নিয়োগের প্রস্তুতিও নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে বিলিবিলির মূল চীনা ভাষার প্ল্যাটফর্ম বিশ্বজুড়েই ব্যবহার করা যায়। প্ল্যাটফর্মটির মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৭ কোটি ৬০ লাখ। এবার আন্তর্জাতিক বাজারে আরও জোরালো উপস্থিতি গড়ে তুলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চায় চীনা প্রতিষ্ঠানটি।
ইতোমধ্যে পশ্চিমা কনটেন্ট নির্মাতাদেরও নিজেদের প্ল্যাটফর্মে আনতে কাজ করছে বিলিবিলি। জনপ্রিয় ইউটিউবার মিস্টারবিস্টসহ কয়েকজন পশ্চিমা তারকা বিলিবিলির চীনা ভাষার প্ল্যাটফর্মে ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য বিলিবিলির বিতরণ করা একটি উপস্থাপনায় জানানো হয়েছে, শিগগিরই ইংরেজি সংস্করণের ওয়েবসাইট চালু করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্ল্যাটফর্মটির ব্যবহার বাড়াতে এ উদ্যোগে জোরালোভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য আন্তর্জাতিক অ্যাপের নতুন সংস্করণে পরিচয় যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে পাসপোর্ট বা অন্য কোনো পরিচয়পত্র ছাড়াই ব্যবহারকারীরা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন।
বৈশ্বিক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটি, ব্রাজিলের সাও পাওলো, তুরস্কের ইস্তাম্বুল এবং জাপানের টোকিওতে কমিউনিটি ম্যানেজার নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিলিবিলি।
কনটেন্ট নির্মাতাদের আয়ের সুযোগ বাড়াতেও নতুন পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। নির্মাতাদের সঙ্গে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্পনসরশিপের সুযোগ তৈরি করতে একটি মার্কেটপ্লেস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিলিবিলি জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে তারা।
তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের পথে বিলিবিলিকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে সেন্সরশিপ, কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে টিকটককে ঘিরে যে ধরনের বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছিল, বৈশ্বিক বাজারে বড় পরিসরে প্রবেশের পর বিলিবিলিকেও একই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে।
আরও পড়ুন:








