বৃহস্পতিবার

১৮ জুন, ২০২৬ ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

মেটার সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান: এআই বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের কৌশল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬ ০৮:৩৬

শেয়ার

মেটার সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান: এআই বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের কৌশল
ছবি সংগৃহীত

ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের উন্নত সংস্করণ ব্যবহারের জন্য সাবস্ক্রিপশন বা মাসিক ফি নির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছে মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটা। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুক প্লাস, ইনস্টাগ্রাম প্লাস এবং হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস নামে নতুন পরিষেবা চালু করেছে। এই প্রতিটি সেবার জন্য ব্যবহারকারীকে প্রতি মাসে ৯৯ টাকা করে ব্যয় করতে হবে।

মেটা কর্তৃপক্ষ জানায়, মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে এবং বিজ্ঞাপনের বাইরে আয়ের নতুন উৎস তৈরি করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি বিজনেসেস, ক্রিয়েটর্স এবং পাওয়ার ইউজারদের জন্য এআই চ্যাটবটসহ বিভিন্ন উন্নত সুবিধা এই সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তিতে মার্ক জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠান অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। সেই অবস্থান পুনরুদ্ধারে মেটা এআই অবকাঠামোতে ১২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। টেক আর্কের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান বিশ্লেষক ফয়সাল কাওসা এই প্রসঙ্গে জানান, মেটার এই বিশাল বিনিয়োগের সার্থকতা প্রমাণের জন্য একটি স্থায়ী ও সামঞ্জস্যপূর্ণ আয়ের উৎস প্রয়োজন। শুধু বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মাইক্রোসফট বা গুগলের মতো বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা অর্জনে মেটা এখনো কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি, যা তাদের বাণিজ্যিক উপস্থিতিতে প্রভাব ফেলছে।

আর্থিক বিশ্লেষক সংস্থা ট্রুইস্ট সিকিউরিটিজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ সাবস্ক্রিপশন খাত থেকে মেটার বছরে ২০ বিলিয়ন ডলার বাড়তি আয় হতে পারে। অন্যদিকে, ডয়চে ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, আগামী বছরই এই খাত থেকে ১৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অনেক বিশ্লেষক এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

মেটার গত বছরের বার্ষিক আয়ের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মোট আয়ের ৯৭ দশমিক ৬ শতাংশই এসেছে বিজ্ঞাপন থেকে। গত দুই দশকেও তারা বিজ্ঞাপনের বাইরে ব্যবসার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারেনি। বিপরীতে গুগল বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীল হলেও এক দশক আগেই বিজ্ঞাপনের বাইরে যে পরিমাণ আয় করত, মেটা গত বছরেও সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

এআই বিশেষজ্ঞ এবং এআইএনসিউর্ডের সিটিও শ্রীনিবাস পদ্মনাভুনী মেটার এই উদ্যোগকে সাময়িক জোড়াতালি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, মেটার পেইড প্ল্যানগুলো দেখে মনে হচ্ছে তারা এআই খাতের বিশাল বিনিয়োগ দ্রুত তুলে আনার চেষ্টা করছে। নিয়মিত ব্যবহারকারীদের বাড়তি কিছু সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এই অর্থ আদায়ে মেটা বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে। মূলত এআই প্রযুক্তিতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতেই জাকারবার্গ এই নতুন ব্যবসায়িক মডেলের দিকে ঝুঁকছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।



banner close
banner close