যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান প্লুটোকে আবার সৌরজগতের পূর্ণাঙ্গ গ্রহ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে মত দেওয়ায় দীর্ঘদিনের একটি বৈজ্ঞানিক বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। তার বক্তব্যের পর জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে প্লুটোর প্রকৃত অবস্থান নিয়ে আলোচনা আবার জোরালো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ২০২৭ সালের বাজেট শুনানিতে আইজ্যাকম্যান বলেন, প্লুটোর গ্রহের মর্যাদা পুনর্বহাল হওয়া উচিত। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করার জন্য নাসা গবেষণাপত্র প্রস্তুত করছে।,
তার এই অবস্থানের পেছনে ২০১৫ সালে প্লুটোর খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়া নাসার ‘নিউ হরাইজনস’ মহাকাশযানের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
১৯৩০ সালে আবিষ্কারের পর দীর্ঘ সময় প্লুটো সৌরজগতের নবম গ্রহ হিসেবে স্বীকৃত ছিল। তবে ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংঘ নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করে। সেই সংজ্ঞা অনুযায়ী কোনো গ্রহকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে হবে, নিজের মহাকর্ষের কারণে প্রায় গোলাকার হতে হবে এবং নিজের কক্ষপথের আশপাশে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করতে হবে।
প্লুটো প্রথম দুটি শর্ত পূরণ করলেও তৃতীয় শর্তে পিছিয়ে পড়ে। কারণ তার কক্ষপথে থাকা অন্যান্য ক্ষুদ্র মহাজাগতিক বস্তুর ওপর সে পর্যাপ্ত মহাকর্ষীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ফলে তাকে ‘বামন গ্রহ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, সে সময় আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংঘের অল্পসংখ্যক সদস্য ভোটে অংশ নিয়েছিলেন। অনেক বিজ্ঞানীর মতে, প্লুটোর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য, উপগ্রহের উপস্থিতি এবং অভ্যন্তরে সম্ভাব্য মহাসাগর থাকার কারণে তাকে পূর্ণাঙ্গ গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
নিউ হরাইজনস অভিযানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্লুটো একটি সক্রিয় ও বৈচিত্র্যময় জগৎ। সেখানে পানির বরফের পাহাড়, নাইট্রোজেন বরফের হিমবাহ, বালিয়াড়ি এবং গ্যাস ও উদ্বায়ী পদার্থ নির্গমনকারী বিশেষ ধরনের আগ্নেয়গিরির অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর পৃষ্ঠের তাপমাত্রা মাইনাস ২২৬ থেকে মাইনাস ২৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়।
তবে অনেক বিজ্ঞানীর ধারণা, গভীরে তরল মহাসাগর থাকতে পারে।
প্লুটোর পাঁচটি উপগ্রহ রয়েছে। এর সমর্থকদের মতে, এসব বৈশিষ্ট্য একটি প্রকৃত গ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যদিকে বিরোধীরা মনে করেন, প্লুটোকে আবার গ্রহের মর্যাদা দিলে সৌরজগতে আরও বহু বস্তুকে গ্রহ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যা বিদ্যমান শ্রেণিবিন্যাসকে জটিল করে তুলবে।
যদিও নাসা এই বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, গ্রহের আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা নির্ধারণের ক্ষমতা তাদের নেই। সে দায়িত্ব আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংঘের। ফলে প্লুটোর মর্যাদা পরিবর্তন করতে হলে বিশ্বব্যাপী বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য প্রয়োজন হবে। তবে নাসা প্রধানের সাম্প্রতিক মন্তব্যে বহুদিনের বিতর্ক আবার নতুন গতি পেয়েছে।,
আরও পড়ুন:








