পানি অপচয় রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘টেমস ওয়াটার’।
কম্পানিটি দাবি করেছে, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটির নিচে থাকা অদৃশ্য পানির লিকেজ দ্রুত ও আরো নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এ প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি লিটার পর্যন্ত পানির অপচয় রোধ করা যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের সুইনডন ও আশপাশের এলাকায় পানি সরবরাহকারী টেমস ওয়াটার এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘অরিজিন টেক’–এর সঙ্গে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মাটির আর্দ্রতা ও ভূগর্ভস্থ নড়াচড়া বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য লিকেজ শনাক্ত করা হবে।
যুক্তরাজ্যের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ‘এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি’র তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে সরবরাহ করা মোট পানির প্রায় ১৯ শতাংশই গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর আগেই পাইপলাইনের ফুটো বা লিকেজের কারণে নষ্ট হয়ে যায়।
অরিজিন টেকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জন মার্সডেন জানিয়েছেন, তাদের ব্যবহৃত স্যাটেলাইটগুলো প্রতি ছয় দিনে অন্তত একবার সুইনডন এলাকার ওপর দিয়ে যায়। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে যেসব এলাকায় পানির লিকেজের ঝুঁকি রয়েছে, সেগুলো মানচিত্রে নির্দিষ্ট বিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
পরীক্ষামূলক ধাপ সফলভাবে শেষ হওয়ার পর আগামী ১৩ মাস যৌথভাবে কাজ করবে প্রতিষ্ঠান দুটি। জন মার্সডেনের দাবি, মাটির নিচে থাকা এমন অনেক লিকেজ রয়েছে, যা খালি চোখে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।
এআইনির্ভর এই প্রযুক্তি প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় অন্তত পাঁচ গুণ দ্রুত কাজ করতে সক্ষম।
প্রযুক্তিটির মাধ্যমে একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম সম্ভাব্য লিকেজের সুনির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করে মানচিত্র তৈরি করে দেয়। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেন।,
মার্সডেন বলেন, ভিক্টোরিয়ান আমল থেকে যেভাবে মাটির নিচের ফুটো খুঁজে বের করা হতো, এখনও অনেক ক্ষেত্রেই একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তবে এখন পার্থক্য হলো—স্যাটেলাইট প্রযুক্তির নির্ভুল তথ্য ও নির্দেশনা তাদের কাজকে আরও কার্যকর করে তুলছে।
আগের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পে টেমস ওয়াটারের নেটওয়ার্কজুড়ে প্রায় ৮০০টি পানির লিকেজ শনাক্ত করা হয়েছিল। কম্পানির দাবি, ওই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৮৭ লাখ লিটার পানি সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে, যা অলিম্পিক গেমসের তিনটির বেশি সুইমিং পুল ভরার জন্য যথেষ্ট।,
টেমস ওয়াটারের তথ্যমতে, পরীক্ষার সময় এমন কিছু বড় লিকেজও শনাক্ত হয়, যেখান থেকে প্রতি সেকেন্ডে ১০ লিটারের বেশি পানি অপচয় হচ্ছিল। এসব ফুটো বন্ধের মাধ্যমে প্রতি আট সেকেন্ডে একটি বাথটাব পূর্ণ করার সমপরিমাণ পানি সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
টেমস ওয়াটারের লিকেজ বিভাগের প্রধান শেন গ্লস্টার বলেন, “আমাদের পাইপলাইনের বড় একটি অংশের লিকেজ সাধারণ গ্রাহকদের চোখে পড়ে না, কারণ সেগুলো মাটির নিচে থাকে। অরিজিন টেকের স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহারের ফলে আমরা এখন আরও দ্রুত ও নিখুঁতভাবে ত্রুটিপূর্ণ স্থান শনাক্ত করতে পারছি। এর মাধ্যমে পানির অপচয় কমিয়ে আনার কাজ আরও দক্ষতার সঙ্গে করা সম্ভব হচ্ছে।”
আরও পড়ুন:








