শুক্রবার

১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

৫০ হাজার সরকারি কর্মীকে এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে দুবাই

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:০৭

শেয়ার

৫০ হাজার সরকারি কর্মীকে এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে দুবাই
ছবি সংগৃহীত

সরকারি সেবা আধুনিকায়ন ও দক্ষতা বাড়াতে ৫০ হাজার কর্মীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দুবাই।

গলফ নিউজের বরাতে জানা যায়, ‘এআই ওয়ার্কফোর্স ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রাম নামে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে ডিজিটাল দুবাই, দুবাই গভর্নমেন্ট হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট এবং দুবাই ফিউচার ফাউন্ডেশনের অধীন দুবাই সেন্টার ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সেবা প্রদান এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে এআইয়ের ভূমিকা বাড়বে—এই বাস্তবতায় সরকারি কর্মীদের প্রস্তুত করতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

স্মার্ট ও দ্রুত সেবার ওপর জোর

এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের এআই টুল ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা হবে, যাতে তারা কাজের গতি বাড়াতে ও সেবার মান উন্নত করতে পারেন।

এর লক্ষ্য হলো এআইকে শুধু একটি প্রযুক্তিগত ধারণা হিসেবে না রেখে, সরকারি কাজের একটি ব্যবহারিক অংশে পরিণত করা। কর্মসূচিতে সিনিয়র কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের জন্য আলাদা আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল দুবাইয়ের মহাপরিচালক হামাদ ওবায়েদ আল মানসুরি বলেন, এই উদ্যোগ সরকারি কর্মীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরনে পরিবর্তন আনবে। কর্মীরা শুধু ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, বরং এখন মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী আরো স্মার্ট ও কার্যকর সেবা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।

তিনি আরো বলেন, এই কর্মসূচি দুবাইয়ের বৃহত্তর অর্থনৈতিক ভিশনকে সমর্থন করে এবং ডিজিটাল রূপান্তরে বৈশ্বিক নেতা হিসেবে এর অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করে।

সরকারের সব স্তরে দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা

দুবাই গভর্নমেন্ট হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্টের মহাপরিচালক আবদুল্লাহ আলী বিন জায়েদ আল ফালাসি বলেন, মানুষের দক্ষতায় বিনিয়োগ দুবাইয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই কর্মসূচি কর্মীদের এমন বাস্তবমুখী, ভবিষ্যৎ-উপযোগী দক্ষতা দিতে তৈরি করা হয়েছে যা তাদের দক্ষতা বাড়াবে এবং উদ্ভাবনকে সহায়তা করবে। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ধারাবাহিক শেখার পরিবেশও তৈরি করবে।

দুবাই ফিউচার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খালফান বেলহুল বলেন, সরকারি খাতে এআই ব্যবহারের বিস্তারে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এর মাধ্যমে প্রযুক্তিকে বাস্তবসম্মত সেবায় রূপান্তরের সক্ষমতা বাড়ানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে শুধু প্রযুক্তির ওপর নয়, বরং এমন মানবিক সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এটি এআইকে বাস্তবসম্মত সমাধানে রূপ দেবে এবং সেবা ও গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নত করতে পারে।

পদ অনুযায়ী আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা

কর্মসূচিটি দায়িত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ধারায় বিভক্ত করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় সিনিয়র কর্মকর্তারা এআই কৌশল ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশিক্ষণ নেবেন।

চিফ এআই অফিসাররা নীতিমালা বাস্তবায়নে কাজ করবেন। পণ্য ও সেবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এআইভিত্তিক সমাধান তৈরি ও তার প্রভাব মূল্যায়ন শিখবেন।

এ ছাড়া ম্যানেজাররা কাজের প্রবাহে এআই সংযুক্ত করার কৌশল শিখবেন। অন্যান্য কর্মীরা এআই-চালিত টুল, অটোমেশন এবং প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পাবেন।

ভবিষ্যৎমুখী ডিজিটাল কাঠামো গঠন

কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি খাতে ডিজিটাল দক্ষতা বাড়বে, সেবার গতি বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে উদ্ভাবন জোরদার হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



banner close
banner close