শুক্রবার

১৭ জুলাই, ২০২৬ ২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠে মিলবে অশেষ রহমত

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪৫

শেয়ার

জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠে মিলবে অশেষ রহমত
ছবি সংগৃহীত

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন। এই দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠ, দোয়া এবং সুরা কাহাফ তিলাওয়াতের বিশেষ ফজিলতের কথা কোরআন-হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। আলেমরা বলেন, জুমার দিনের এসব আমল একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর রহমত, ক্ষমা ও নৈকট্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী (সা.) বলেছেন, "জুমার দিনের যে মুহূর্তে দোয়া কবুল হওয়ার আশা করা যায়, তা আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খুঁজে নাও।"

—(জামে তিরমিজি; সহিহ মুসলিম; মিশকাতুল মাসাবিহ)

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী (সা.) বলেন, "জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে কল্যাণের জন্য দোয়া করলে তিনি তা কবুল করেন।"

—(সহিহ মুসলিম; মুসনাদে আহমাদ)

জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠের নির্দেশ

হযরত আওস ইবনে আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী (সা.) বলেন, "তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনই সর্বোত্তম। তাই এ দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।"

— (সুনানে আবু দাউদ; সুনানে নাসাঈ; সুনানে ইবনে মাজাহ; বাইহাকি)

আরেক হাদিসে নবীজী (সা.) বলেন, "যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত নাজিল করেন।"

—(সহিহুল জামে)

জুমার দিনে বেশি বেশি এই দরুদ পাঠ করা উত্তম—

اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

হযরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী (সা.) বলেছেন, "জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। আমার উম্মতের দরুদ এ দিন আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। যে সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন সে আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে।"

—(তারগিব)।

সুরা কাহাফ তিলাওয়াতের ফজিলত

হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর থাকবে।"

—(সুনানুল কুবরা, বাইহাকি)

হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী (সা.) বলেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে, সে আট দিন পর্যন্ত সব ধরনের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। দাজ্জাল বের হলেও সে তার ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।"

আলেমরা বলেন, কেউ পুরো সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করতে না পারলে অন্তত প্রথম ১০ আয়াত ও শেষ ১০ আয়াত তিলাওয়াত করলেও ফজিলতের আশা করা যায়।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠ, সুরা কাহাফ তিলাওয়াত, আসরের পর আন্তরিকভাবে দোয়া করা এবং জুমার নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।



banner close
banner close