শুক্রবার

১৯ জুন, ২০২৬ ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

ঘুমানোর আগে মাত্র এক মিনিটের আমল: যা আপনার রাতকে করবে নিরাপদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬ ০৮:৪১

শেয়ার

ঘুমানোর আগে মাত্র এক মিনিটের আমল: যা আপনার রাতকে করবে নিরাপদ
ছবি এআই মাধ্যমে তৈরি

দিনের ব্যস্ততা শেষে যখন আমরা বিশ্রামের জন্য বিছানায় যাই, তখন অনেকেই মোবাইল স্ক্রল করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ি। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন একটি সহজ আমল শিখিয়েছেন, যা রাতের সুরক্ষা, রহমত ও বরকতের জন্য যথেষ্ট। মাত্র কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত করে একজন মুমিন আল্লাহর বিশেষ হেফাজত লাভ করতে পারেন।

আসুন, জেনে নিই সেই মহামূল্যবান আমল সম্পর্কে—

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা

হজরত আবু মাসউদ আল-আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ قَرَأَ بِالْآيَتَيْنِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ

‘যে ব্যক্তি রাতে সুরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।(বুখারি ৫০০৯, মুসলিম ৮০৮)

‘যথেষ্ট হবে’ বলতে উলামায়ে কেরাম ব্যাখ্যা করেছেন—এটি তার জন্য শয়তানের অনিষ্ট, বিভিন্ন বিপদ-আপদ থেকে সুরক্ষা, সওয়াব ও বরকতের কারণ হবে।

সুরা আল-বাকারার শেষ আয়াতসমূহের ফজিলত

আল্লাহ তাআলা বলেন-

لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللَّهُ ۖ فَيَغْفِرُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

‘আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। তোমরা অন্তরে যা প্রকাশ করো বা গোপন রাখো, আল্লাহ তার হিসাব নেবেন। অতঃপর তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন। আর আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।’ (সুরা আল-বাকারাহ: আয়াত ২৮৪)।

এরপর আল্লাহ তাআলা মুমিনদের ইমান, আনুগত্য ও দোয়ার শিক্ষা দিয়েছেন—

اٰمَنَ الرَّسُوۡلُ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡهِ مِنۡ رَّبِّهٖ وَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ؕ كُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ مَلٰٓئِكَتِهٖ وَ كُتُبِهٖ وَ رُسُلِهٖ ۟ لَا نُفَرِّقُ بَیۡنَ اَحَدٍ مِّنۡ رُّسُلِهٖ ۟ وَ قَالُوۡا سَمِعۡنَا وَ اَطَعۡنَا ٭۫ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَ اِلَیۡكَ الۡمَصِیۡرُ لَا یُكَلِّفُ اللّٰهُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَهَا ؕ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَ عَلَیۡهَا مَا اكۡتَسَبَتۡ ؕ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَاۤ اِنۡ نَّسِیۡنَاۤ اَوۡ اَخۡطَاۡنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَا تَحۡمِلۡ عَلَیۡنَاۤ اِصۡرًا كَمَا حَمَلۡتَهٗ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَۃَ لَنَا بِهٖ ۚ وَ اعۡفُ عَنَّا ٝ وَ اغۡفِرۡ لَنَا ٝ وَ ارۡحَمۡنَا ٝ اَنۡتَ مَوۡلٰىنَا فَانۡصُرۡنَا عَلَی الۡقَوۡمِ الۡكٰفِرِیۡنَ

‘রাসুল তার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে নাজিলকৃত বিষয়ের প্রতি ইমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ইমান এনেছে আল্লাহর উপর, তার ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তার রাসুলগণের উপর, আমরা তার রাসুলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই (আমাদের) প্রত্যাবর্তনস্থল।

আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার উপরই বর্তাবে। হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের উপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদেরকে মার্জনা করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আর আমাদের উপর দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব আপনি কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।’ (সুরা আল-বাকারাহ: আয়াত ২৮৫–২৮৬)

কেন ঘুমানোর আগে এই আয়াতগুলো পড়বেন?

আল্লাহর বিশেষ হেফাজত লাভের জন্য।

শয়তানের কুমন্ত্রণা ও অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তার জন্য।

রাতে ইবাদতের সওয়াব অর্জনের জন্য।

হৃদয়ে প্রশান্তি ও ঈমানের দৃঢ়তা বৃদ্ধির জন্য।

ক্ষমা, রহমত ও বরকত লাভের আশায়।

আমলটি যেভাবে করবেন

প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে অজু অবস্থায় অথবা পবিত্র অবস্থায় সুরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত (আয়াত ২৮৫-২৮৬) তিলাওয়াত করুন। অর্থ বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন এবং আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখুন।

আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো ইমান এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও যদি আমরা ঘুমানোর আগে সুরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করার এই ছোট্ট সুন্নাহটি জীবনে অন্তর্ভুক্ত করি, তবে ইনশাআল্লাহ আমরা লাভ করব নিরাপত্তা, প্রশান্তি, রহমত ও অফুরন্ত সওয়াব।

আজ রাত থেকেই এক মিনিটের এই আমলটি শুরু করি এবং নিজের পরিবার-পরিজনকেও এই মহামূল্যবান সুন্নাহ সম্পর্কে জানাই। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কুরআনের সাথে সম্পর্ক গভীর করার তৌফিক দান করুন। আমিন।



banner close
banner close