ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত কোরবানি। ঈদুল আজহার দিনের অন্যতম আমল এটি। ঈদুল আজহার পরের দুদিনও কোরবানি করা যায়। সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম যদি কোরবানি ঈদের তিন দিন (১০ জিলহজ সকাল থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগপর্যন্ত) জাকাত পরিমাণ সম্পদের মালিক (সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা এর যে কোনো একটির মূল্যের সমপরিমাণ নগদ অর্থ ব্যবসার পণ্যের মালিক) থাকেন বা হন, তার জন্য কোরবানি ওয়াজিব।
কোরবানি করতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। কোরবানিতে লোক দেখানো বা গোশত খাওয়ার নিয়ত করা যাবে না। আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া ভিন্ন কিছুর নিয়ত করলে কোরবানি হবে না। কারণ, আল্লাহর কাছে মানুষের নিয়ত পৌঁছায়। আল্লাহ মানুষের নিয়ত দেখেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের কোরবানির পশুর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না। আল্লাহর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)
বর্তমানে পশুর হাটগুলোতে ওজন করে পশু বিক্রির প্রচলন দেখা যায়। আগে এটি ছিল না। আগে মানুষ দরদাম করেই পশু কিনত। গত কয়েক বছর ধরে ওজন করে পশু কেনার একটা প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এভাবে পশু কেনার কারণে কোরবানির উদ্দেশ্য বা মাহাত্ম্যে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে কি না, এ নিয়ে সংশয়ে ভোগেন কেউ কেউ। কেউ কেউ জানতে চান, ওজন করে পশু কিনে কোরবানি দিলে হবে কি না?
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোরবানির পশু ওজন করে কেনাবেচা করা যাবে। ওজন করে কেনাবেচায় কোনো অসুবিধা নেই। তবে কেনাবেচা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে হতে হবে। ওজন করে কেনা পশু দিয়ে কোরবানি আদায় করলে কোরবানি হয়ে যাবে। শর্ত হলো, ওজন করে কেনার সময় গোশত পাওয়াটাই একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া যাবে না। আল্লাহর সন্তুষ্টিই মূল হতে হবে।
আহসানুল ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ওজনের মূল্য হিসেবে যেমন গরুটি একশ কেজি, সুতরাং একশ কেজির গোশতের মূল্য প্রদান করে গরুটি ক্রয় করা হলো—এভাবে বেচাকেনা জায়েজ হবে না। (খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৪৯৭)।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘কোরবানির পশু ওজন করে কেনা যাবে কি না’ প্রশ্নের জবাবে ইউটিউবে বলেন, ‘কোরবানির পশু কেনার ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণের জন্য ওজন পরিমাপ করলে কোনো অসুবিধা নেই। এ ক্ষেত্রে ন্যায্যমূল্যে পশু কিনতে সুবিধা হয়। ন্যায্যতা নিশ্চিতে কোরবানির পশুর ওজন পরিমাপ করা যাবে। ব্যবাসায়িক হিসাব-নিকাশের জায়গা থেকে এ রকম করলে কোরবানির উদ্দেশ্য ব্যাহত করবে। কোরবানি পশু কেনার সময় লাভ-লোকসানের হিসাব করা যাবে না।’
আরও পড়ুন:




.jpg)



