বৃহস্পতিবার

২১ মে, ২০২৬ ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মোবাইল ভাঙা নিয়ে বিতর্ক: ‘হারামকে হালাল করা যাবে না: রফিকুল ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬ ১৯:৫৯

শেয়ার

মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মোবাইল ভাঙা নিয়ে বিতর্ক: ‘হারামকে হালাল করা যাবে না: রফিকুল ইসলাম
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর কদমতলীর মেরাজনগরের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন প্রকাশ্যে ভেঙে ফেলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষার নামে অন্যের সম্পদ নষ্ট করা শরীয়তসম্মত কি না, সে বিষয়ে ধর্মীয় অঙ্গনেও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বসুন্ধরা মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতি রফিকুল ইসলাম আল মাদানী তাঁর ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত মতামত প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে পোস্টের মন্তব্যের ঘরেও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

মুফতি রফিকুল ইসলাম আল মাদানী বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের অনিয়ন্ত্রিত মোবাইল ব্যবহার থেকে বিরত রাখা প্রয়োজন। তবে কোনো অবস্থাতেই কারও সম্পদ নষ্ট করা বা ভেঙে ফেলা ইসলাম সমর্থন করে না। তাঁর মতে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি ফরমে এ ধরনের শর্ত উল্লেখ থাকলেও তা শরীয়তসম্মত হয়ে যায় না।

তিনি বলেন, “শরীয়তে নিষিদ্ধ কোনো কাজকে ভর্তি ফরমের শর্তের মাধ্যমে বৈধ করা যায় না। শরীয়তবিরোধী শত শর্ত যুক্ত করলেও তা বৈধ হবে না।”

নিয়ম ভঙ্গকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, শাস্তি প্রদান, ভর্তি বাতিল কিংবা বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির সম্পদ ধ্বংস করার অধিকার অন্য কারও নেই। তাঁর ভাষায়, “শর্ত ভঙ্গ করা পাপ হতে পারে, কিন্তু সেই পাপ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আরেকটি পাপ করা যাবে না।”

ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, গাজীপুরের একটি মাদ্রাসায় তাঁর তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করে পরে নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মুফতি রফিকুল ইসলাম বলেন, “এটা হালাল হয়নি।” তিনি ব্যাখ্যা করেন, শাস্তি দেওয়ার বৈধ পদ্ধতি শরীয়তে রয়েছে, কিন্তু কারও সম্পদ অন্যের জন্য বৈধ হয়ে যায় না।

তিনি আরও বলেন, মোবাইল ফোন বৈধ কাজে ব্যবহার করলে তা বৈধ এবং অবৈধ কাজে ব্যবহার করলে তার দায় ব্যবহারকারীর। তাই কেবল সম্ভাব্য অপব্যবহারের অজুহাতে অন্যের মোবাইল ভেঙে ফেলার কোনো অধিকার কারও নেই।

মুফতি রফিকুল ইসলাম আল মাদানীর মতে, ইসলামের নির্দেশনা হলো বৈধ উপায়ে অবৈধ কাজ প্রতিরোধ করা। প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার, ভর্তি বাতিল বা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে জব্দ করা সম্পদ নষ্ট করা কিংবা আত্মসাৎ করা কোনোভাবেই বৈধ নয়।

তিনি বলেন, “অবৈধ কাজের নিয়ন্ত্রণে অবৈধ কাজ করা কখনো জায়েজ হতে পারে না। প্রয়োজনে মাদ্রাসা বন্ধ করা যাবে, কিন্তু হারামকে হালাল করা যাবে না।”

এ ছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, ইসলাম নিজের সম্পদও অকারণে নষ্ট করার অনুমতি দেয় না। সেক্ষেত্রে অন্যের সম্পদ ধ্বংস করা আরও গুরুতর অন্যায়।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষে মত দিলেও অন্যের সম্পদ ভাঙচুর বা আত্মসাতের বিরোধিতা করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে শরীয়ত, নৈতিকতা এবং প্রচলিত আইনের সীমার মধ্যেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।



banner close
banner close