রবিবার

৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩

জান্নাতে যাওয়ার পরও কি মানুষের কোনো বিষয়ে আফসোস থাকবে?

ইসলাম ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:০৮

শেয়ার

জান্নাতে যাওয়ার পরও কি মানুষের কোনো বিষয়ে আফসোস থাকবে?
ছবি সংগৃহীত

প্রশ্ন: অনেক মানুষ বলে থাকে, জান্নাতিদের মধ্যে যারা অন্যদের তুলনায় ছোটো জান্নাত লাভ করবে, তারা জান্নাতে যাওয়ার পরেও আফসোস করবে। এই কথাটা কি সঠিক?

উত্তর: না, কথাটি সঠিক নয়। জান্নাতে আফসোস বলতে কিছু থাকবে না। কারণ, আফসোস এক ধরনের মানসিক কষ্ট, আর জান্নাতে কষ্টের কোনো স্থান নেই।

আল্লাহ তায়ালা জান্নাতবাসীর অবস্থা বর্ণনা করে বলেন, لَا یَمَسُّنَا فِیۡہَا نَصَبٌ وَّلَا یَمَسُّنَا فِیۡہَا لُغُوۡبٌ.

অর্থ: (তারা বলবে) এখানে আমাদেরকে কোনো কষ্ট স্পর্শ করবে না, কোনো ক্লান্তিও দেখা দেবে না। (সুরা ফাতির, ৩৫)

অবশ্য এক হাদিসে মুআজ ইবনে জাবাল রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, لَيْسَ يَتَحَسَّرُ أَهْلُ الْجَنَّةِ إِلَّا عَلَى سَاعَةٍ مَرَّتْ بِهِمْ لَمْ يَذْكُرُوا اللهَ فِيْهَا.

অর্থাৎ, জান্নাতবাসী কেবলমাত্র ওই সময়ের ব্যাপারে আফসোস করবে, যে সময়টি তাদের আল্লাহর স্মরণ-বিহীন কেটেছে। (আল-মুজামুল কাবির লিত তবারানি, ১৮২)

এ হাদিস বিশুদ্ধতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ কিনা—এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে হাদিসটিকে বিশুদ্ধ ধরে নেওয়া হলেও এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, জান্নাতে প্রবেশ করার আগে, কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর সময়ে তারা আল্লাহর স্মরণ-বিহীন কাটানো সময়ের জন্য আফসোস করবে।

বিখ্যাত হাদিস-ব্যাখ্যাতা হাফেয মুনাবি রহ. ফায়যুল কাদির গ্রন্থে বলেন, هَذِهِ الْحَسَرَاتُ إِنَّمَا هِيَ ‌فِي ‌الْمَوْقِفِ ‌لَا ‌فِي ‌الْجَنَّةِ كَمَا بَيَّنَهُ الْحَكِيْمُ وَغَيْرُهُ.

অর্থাৎ এ আফসোস কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর সময় হবে, জান্নাতের ভেতরে নয়। (ফায়যুল কাদির, ৫/৩৯০)

মোটকথা, হাদিসটিকে বিশুদ্ধ ধরে নেওয়া হলেও তা দ্বারা জান্নাতে প্রবেশ করার পর আফসোস করার বিষয়টি প্রমাণিত হয় না। বরং কেবলমাত্র এতটুকু প্রমাণিত হয় যে, তারা আল্লাহর স্মরণ-বিহীন কাটানো সময়ের জন্য আফসোস করবে।

তবে সেটা জান্নাতে প্রবেশ করার পূর্বে, হিসাব দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর সময়ে। জান্নাতে প্রবেশ করার পরে তাদের মধ্যে আফসোস বলতে কিছু থাকবে না।

সূত্র: নাওয়াদিরুল উসুল, ৪/১০৭; আত-তাইসির, ২/৩৩১; আত-তানবির, ৯/২৯১