শনিবার

২৮ মার্চ, ২০২৬ ১৪ চৈত্র, ১৪৩২

সালামের উত্তর দেওয়ার পদ্ধতি ও বিধান সম্পর্কে কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা

ইসলাম ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ মার্চ, ২০২৬ ১০:৪৬

আপডেট: ২৮ মার্চ, ২০২৬ ১১:০৮

শেয়ার

সালামের উত্তর দেওয়ার পদ্ধতি ও বিধান সম্পর্কে কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা
প্রতীকী ছবি

ইসলামি সংস্কৃতিতে সালাম দেওয়া সুন্নত এবং সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সালামের উত্তর একই ধরনের বা তার চেয়ে উত্তমভাবে দেওয়া আবশ্যক। ফিকহবিদদের মতে, সালামের জবাব দিতে হবে স্পষ্ট ভাষায় এবং সালামদাতাকে শুনিয়ে, যাতে পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় হয়।

পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ৮৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, যখন তোমাদের সালাম দেওয়া হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম অভিবাদন জানাও অথবা একই ধরনের জানাও। এ আয়াতের ভিত্তিতে ইসলামি পণ্ডিতরা সালামের উত্তরকে ওয়াজিব বলে অভিহিত করেছেন। উত্তম পদ্ধতি হলো, কেউ যদি আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলে সালাম দেয়, তাহলে উত্তর দেওয়া ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। এতে কোরআনের নির্দেশিত উত্তম প্রতিদানের হুকুম পালিত হয়।

সালামের উত্তর সুন্দরভাবে এবং সালামদাতাকে শুনিয়ে দেওয়া উত্তম। নিভৃতে বা মনে মনে উত্তর দিলেও ওয়াজিব আদায় হয়, কিন্তু সুন্নাহর পূর্ণ সওয়াব অর্জিত হয় না। কোনো অমুসলিম সালাম দিলে পূর্ণ উত্তর না দিয়ে শুধু ওয়া আলাইকা বা ওয়া আলাইকুম বলার বিধান রয়েছে, যা সহিহ বুখারির হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

চিঠি, মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাপ্ত সালামের জবাব দেওয়াও ওয়াজিব। উত্তর লিখে অথবা মুখে উচ্চারণ করে দেওয়া যায়। ইসলামের নির্দেশনায় কয়েকটি বিশেষ অবস্থায় সালামের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। সেগুলো হলো টয়লেট বা বাথরুমে থাকা অবস্থায়, জুমার খুতবা চলাকালে এবং নামাজ আদায়রত অবস্থায়।

সালামের উত্তর ইসলামি ভ্রাতৃত্বের অন্যতম প্রতীক। সঠিক নিয়মে সালামের উত্তর প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক সম্পর্ক মজবুত হয় এবং ধর্মীয় বিধান পরিপূর্ণভাবে আদায়ের সুযোগ লাভ করা যায়।



banner close
banner close