বুধবার

১১ মার্চ, ২০২৬ ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

দোয়া কবুলের অমূল্য মুহূর্ত কোনটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৫১

শেয়ার

দোয়া কবুলের অমূল্য মুহূর্ত কোনটি
ছবি: সংগৃহীত

রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসে প্রতিটি মুহূর্তই আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। বিশেষ করে ইফতারের ঠিক আগের সময়— এ সময়টি মুমিনের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। তাই ইফতারের সময় তাড়াহুড়ো করে খাবারের দিকে না গিয়ে আগে কিছু সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত।

অনেকেই আজান শোনামাত্রই খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। অথচ এটি এমন একটি সময় যখন বান্দার দোয়া আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে কবুল করেন। তাই এই মুহূর্তটি যেন আমরা অবহেলায় নষ্ট না করি।

কুরআনের নির্দেশ আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন—

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ

‘আর আমার বান্দারা যখন আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন বলে দাও—আমি তো নিকটেই আছি। যে আমাকে ডাকে আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৬)

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি তাদের দোয়া শুনেন এবং কবুল করেন। রমজানের ইফতারের মুহূর্ত সেই দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সময়গুলোর একটি।

হাদিসে ইফতারের দোয়ার গুরুত্ব

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

ثَلَاثَةٌ لَا تُرَدُّ دَعْوَتُهُمْ: الصَّائِمُ حَتَّى يُفْطِرَ، وَالْإِمَامُ الْعَادِلُ، وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ

‘তিন ব্যক্তির দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না—

১. রোজাদারের দোয়া, যতক্ষণ না সে ইফতার করে,

২. ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া,

৩. মজলুমের দোয়া।’ (তিরমিজি ৩৫৯৮)

এই হাদিস স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে কবুল করেন।

ইফতারের সময়ের দোয়া

ইফতারের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া পড়তেন—

ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ

উচ্চারণ: ‘জাহাবাজ্-জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরূকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশা আল্লাহু।’

অর্থ: ‘তৃষ্ণা বিদূরিত হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং ইনশাআল্লাহ সওয়াব নিশ্চিত হলো।’ (আবু দাউদ ২৩৫৭)

ইফতারের আগে কী দোয়া করবেন

ইফতারের সেই অমূল্য মুহূর্তে আপনি আল্লাহর কাছে যা চাইবেন, তা আন্তরিকভাবে চাইতে পারেন। যেমন—

১. নিজের গুনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করুন

২. ইমান ও তাকওয়া বৃদ্ধির দোয়া করুন

৩. পরিবার ও সন্তানের জন্য দোয়া করুন

৪. অসুস্থদের সুস্থতা কামনা করুন

৫. মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করুন

৬. দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ প্রার্থনা করুন

৭. কুরআনে উল্লেখিত শ্রেষ্ঠ দোয়াটি পড়ুন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: ‘রব্বানা আতিনা ফিদদুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া ক্বিনা আজাবান নার।’

অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন, আর আমাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২০১)

ইফতারের আগে কয়েকটি মুহূর্ত—এটি কেবল খাবার শুরু করার সময় নয়, বরং আল্লাহর দরবারে নিজের হৃদয় উজাড় করে দোয়া করার সুবর্ণ সুযোগ। তাই তাড়াহুড়ো করে খাবারের থালার দিকে না গিয়ে প্রথমে হাত তুলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান, দিকনির্দেশনা চান এবং নিজের ও উম্মাহর জন্য কল্যাণ কামনা করুন।

মনে রাখবেন, হয়তো সেই মুহূর্তের একটি দোয়া আপনার জীবন বদলে দিতে পারে, আপনার গুনাহ মাফ করে দিতে পারে কিংবা আপনার ভবিষ্যৎকে আলোকিত করে দিতে পারে। তাই ইফতারের সেই অমূল্য মুহূর্তটি কখনোই নষ্ট করবেন না— আল্লাহর দরবারে আন্তরিক দোয়ার মাধ্যমে তাকে মূল্যবান করে তুলুন।



banner close
banner close