জীবনে এমন অনেক সময় আসে, যখন পরিবেশ, পরিস্থিতি আমাদের প্রত্যাশার বিপরীতে যায়। তখন হতাশা, ক্ষোভ আর নিরাশা ভর করে মনে। মনে হয়, কেন এমন হলো, যদি অন্যভাবে হতো!
এই অস্থিরতার মধ্যেও শান্তি খুঁজে নেয়ার উপায় দেখিয়েছে ইসলাম। ইসলাম বলে, এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর নির্ধারিত তাকদির বা ভাগ্যের ভালো মন্দ মেনে নেয়া এবং তার পরিকল্পনার ওপর ভরসা রাখা একজন মুসলিমের প্রধান কর্তব্য।
আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে প্রশান্তি খুঁজতে হলে কোরআনের একটি আয়াতের দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমাদের উপর লড়াইয়ের বিধান দেয়া হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় এবং হতে পারে কোন বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে কোন বিষয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।। (সুরা বাকারা, আয়াত : ২১৬)
বিপদে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে না পারলে যে ক্ষতি
নবী মুসা ও মা হাজেরা (আ.) যেভাবে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেছিলেন
এই আয়াতের শেষ অংশে বলা হয়েছে, আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না—এই কথাটিই আশা ও ভরসার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। কারণ এর ভেতর রয়েছে ইহসান, অর্থাৎ সর্বোত্তমভাবে আল্লাহর ইবাদত ও জীবনযাপন করার মানসিকতা, এবং তাওয়াক্কুল, অর্থাৎ আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা।
এই বিশ্বাস মানুষের মন থেকে দুটি শব্দ মুছে দেয়। তাহলো, যদি ও কেন। কেন আমার সঙ্গে এমন হলো? যদি অন্যভাবে হতো? এমন প্রশ্ন মানুষকে সামনে এগোতে বাধা দেয়। তাই নিজের ভেতর এই বার্তাটি বারবার জাগ্রত রাখা জরুরি যে, আল্লাহ এই বিষয়ে যা জানেন, আমি জানি না।
এই উপলব্ধি মানুষকে তাকদির বা ভাগ্যের ভালোমন্দ গ্রহণ কিংবা প্রত্যাখ্যান করার বিষয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেয়।
ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, তাকদির মেনে নেওয়ার অর্থ হলো বর্তমান বাস্তবতাকে স্বীকার করে নেওয়া এবং ধৈর্য ধারণ করা। এতে মানুষ দুটি বড় নেয়ামত পায়। প্রথমত, হৃদয়ে নেমে আসে প্রশান্তি। দ্বিতীয়ত, আল্লাহ তার এই বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাকে সাহায্য করেন।
তবে বাস্তবতা হলো, অনেক মানুষই কদর মেনে নিতে চায় না।
জীবনে কোনো কঠিন পরিস্থিতি এলে আমরা প্রায়ই ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে কল্পনা করতে থাকি, জীবন ঠিক এই পথে চলবে, এইভাবেই সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু বাস্তবতা যখন সেই কল্পনার সঙ্গে মেলে না, তখন শুরু হয় হতাশা, রাগ, বিষণ্নতা। কখনো সেই ক্ষোভ গিয়ে পড়ে অন্য মানুষের ওপরও।
এর মূল কারণ হলো প্রশান্তির অভাব। অর্থাৎ নিজের অবস্থাকে মেনে নিতে না পারা।
তাই পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আল্লাহ আমাদের সেই পথেই নিয়ে যাবেন, যা তিনি নির্ধারণ করেছেন। আমরা পছন্দ করি বা না করি, সেই পথ বদলাবে না। কিন্তু যখন আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি, তখন আসলে আল্লাহর সিদ্ধান্তকেই অস্বীকার করি। আর সেখান থেকেই শুরু হয় মানসিক অস্থিরতা ও অশান্তি।
তাই জীবনের কঠিন মুহূর্তেও আল্লাহর পরিকল্পনার ওপর আস্থা রাখা, নিজের ভাগ্য মেনে নেওয়া এবং সেই বিশ্বাস থেকে শক্তি ও প্রশান্তি খুঁজে নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন:








