কাবুলে সফররত বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামি আলেমদের (উলামা) একটি প্রতিনিধিদল আফগানিস্তানের প্রধান বিচারপতি শায়খ আবদুল হাকিম হাক্কানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উভয় দেশের ইসলামী আইনচর্চার অভিন্ন ভিত্তি ও সমকালীন বাস্তবতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনায় আফগানিস্তানের শরিয়াভিত্তিক বিচারব্যবস্থার গঠনকাঠামো, বিচারপ্রাপ্তির ধাপ, আপিল ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়সহ সামগ্রিক কার্যপ্রণালী সম্পর্কে প্রতিনিধিদল আগ্রহ প্রকাশ করে।
প্রধান বিচারপতি হাক্কানি বলেন, শরিয়াভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীন ক্ষমতা অপরিহার্য। একটি ইসলামি সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। এই ইনসাফ হতে হবে নিরপেক্ষ, কোনো জাতি, ভাষা বা মাযহাবভেদে পক্ষপাতহীন। তবে ইনসাফের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়, কারণ শান্তি ছাড়া ইনসাফ মানুষের কাছে পৌঁছায় না।
বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সিনিয়র সদস্য মাওলানা মাহবুবুল্লাহ কাসেমী বলেন, বাংলাদেশে হানাফি ফিকহ শিক্ষার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। তবে এই প্রথমবার আমরা এমন উলামাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করছি, যারা সেই একই ফিকহি কাঠামোকে রাষ্ট্রপর্যায়ে নীতিমালা ও বিচারিক কাঠামো হিসেবে বাস্তবায়ন করছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা।
প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের উলামাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, যৌথ গবেষণা, একাডেমিক অধ্যয়ন এবং সমকালীন ফিকহি চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
এ বৈঠককে এশিয়ার ইসলামি ব্যক্তিত্বদের মধ্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষাৎ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। উভয় দেশই মনে করছে, এই ধরণের একাডেমিক ও বিদ্বান-ভিত্তিক বিনিময় ভবিষ্যতে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা আরও প্রসারিত করবে।
আরও পড়ুন:







