রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মানব। যার চরিত্র সর্বোৎকৃষ্ট। কোরআন ও তার চরিত্র দুটো একই বলে ঘোষণা করেছেন উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)।
উত্তম চরিত্র হল, সর্বদা হাসিমুখে থাকা, মানুষের উপকার করা এবং কাউকে কষ্ট না দেওয়া। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্র সম্পর্কে হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন,
আমি ১০ বছর রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমত করেছি; কিন্তু এ সময়ের মধ্যে তিনি কখনো আমার কোন কাজে ’উহ’ শব্দটি পর্যন্ত করেননি। আমি করেছি এমন কোন কাজের ব্যাপারে তিনি কখনো জিজ্ঞেস করেননি যে, কেন করেছি? আর না করার ব্যাপারেও তিনি কখনো জিজ্ঞেস করেননি যে, কেন করোনি? চরিত্র মাধুর্যে তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব সংক্রান্ত হাদিসসমূহ
হজরত আবু হুরাইরাহ (রা.) বলেন, ‘রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুমিনদের মধ্যে সবার চেয়ে পূর্ণ মুমিন ওই ব্যক্তি যে চরিত্রে সবার চেয়ে সুন্দর, আর তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে নিজের স্ত্রীর জন্য সর্বোত্তম। (তিরমিজি ১১৬২)
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘মানুষের মাঝে ওই ব্যক্তি আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় যে তাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি উত্তম চরিত্রের অধিকারী। (ইবনে মাজাহ ৩৪৩৬)
হজরত আবু জার (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেন, তুমি যেখানেই থাক আল্লাহকে ভয় কর, পাপ করলে সাথে সাথে পুণ্যও কর; যাতে পাপ মোচন হয়ে যায় এবং মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার কর। (তিরমিজি ১৯৮৭)
আন-নওয়াস ইবনু সামআন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, উত্তম চরিত্র হচ্ছে নেকি, আর গুনাহ তাকে বলে যা তোমার মনকে সংশয়ের মধ্যে ফেলে এবং তা লোকে জানুক তা তুমি অপছন্দ কর। (মুসলিম ২৫৫৩)
উত্তম চরিত্রের প্রতিদান বিষয়ে হাদিসসমূহ
হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেয়ামতের দিন নেকি ওজন করার দাঁড়ি-পাল্লায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে কোনো বস্তুই অধিক ভারী হবে না। আর আল্লাহ তাআলা অশ্লীল ও চোয়াড়কে অপছন্দ করেন। (তিরমিজি ২০০৩)
হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হল যে, ‘কোন আমল মানুষকে বেশি জান্নাতে নিয়ে যাবে?’ তিনি বললেন, আল্লাহভীতি ও সচ্চরিত্র। আর তাঁকে (এটাও) জিজ্ঞাসা করা হল যে, ‘কোন আমল মানুষকে বেশি জাহান্নামে নিয়ে যাবে?’ তিনি বললেন, মুখ ও যৌনাঙ্গ (অর্থাৎ, উভয় দ্বারা সংঘটিত পাপ)। (তিরমিজি ২০০৪)
হজরত আবু উমামাহ বাহেলী (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতের শেষ সীমায় একটি ঘর দেয়ার জন্য জামিন হচ্ছি, যে সত্যাশ্রয়ী হওয়া সত্ত্বেও কলহ-বিবাদ বর্জন করে। সেই ব্যক্তির জন্য আমি জান্নাতের মধ্যস্থলে একটি ঘরের জামিন হচ্ছি, যে উপহাসের ছলেও মিথ্যা বলা বর্জন করে। আর সেই ব্যক্তির জন্য আমি জান্নাতের সবচেয়ে উঁচু জায়গায় একটি ঘরের জামিন হচ্ছি, যার চরিত্র সুন্দর। (আবু দাউদ ৪৮০২, তিরমিজি ১৯৯৩)
হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে আমার প্রিয়তম এবং কেয়ামতের দিন অবস্থানে আমার নিকটতম ব্যক্তিদের কিছু সেই লোক হবে যারা তোমাদের মধ্যে চরিত্রে শ্রেষ্ঠতম। আর তোমাদের মধ্যে আমার নিকট ঘৃণ্যতম এবং কেয়ামতের দিন অবস্থানে আমার নিকট থেকে দূরতম হবে তারা; যারা ’সারসার’ (অনর্থক অত্যধিক আবোল-তাবোল বলে যারা) ও ’মুতাশাদ্দিক’ (বা আলস্য ভরে টেনে টেনে কথা বলে যারা) এবং যারা ’মুতাফাইহিক’ লোক; সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ’সারসার’ (অনর্থক কথাবার্তা যারা বলে) এবং মুতাশাদ্দিক (আলস্য ভরে বা কায়দা করে টেনে-টেনে কথা বলে) তাদেরকে তো চিনলাম; কিন্তু ’মুতাফাইহিক’ কারা? রসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, অহংকারীরা।’ (তিরমিজি ২০১৮)
আরও পড়ুন:







