চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার নিজমেহার গ্রামে জন্ম নেওয়া এক সাধারণ পান দোকানদারের সন্তান আজ আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে পুরো উপজেলায়। বয়স মাত্র ৮ বছর। সময় লেগেছে মাত্র ৫ মাস ২৫ দিন, আর এই সময়েই সে সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআন শরীফ মুখস্থ করে হয়ে উঠেছে হাফেজে কোরআন।
ছেলেটির নাম ছায়েদুজ্জামান তানভীর। তার বাবা মোহাম্মদ নূরুন্নবী স্থানীয় বাজারে পান বিক্রি করে সংসার চালান। একসময় যার পরিচয় ছিল একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে, আজ সেই মানুষটি গর্ব করে পরিচয় দেন— 'আমি একজন হাফেজে কোরআনের পিতা!'
২৬ জুলাই ২০২৫, শনিবার, শাহরাস্তি দারুল কুরআন মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত ‘ছবক প্রদান ও পুরস্কার বিতরণী’ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তানভীরকে হাফেজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। একই আয়োজনে আরও ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে ‘ছবক’ প্রদান করা হয়, যাদের প্রত্যেকেই পবিত্র কোরআন মুখস্থের পথে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসার হেড মুহাদ্দিস আবু নছর আশরাফি। তিনি বলেন, 'এই বয়সে যারা কোরআন হিফজ করছে, তারা জাতির জন্য আশার আলো। এদের চোখে তাকালেই ভবিষ্যতের উজ্জ্বল বাংলাদেশ দেখা যায়।'
বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক মাওলানা আবুল হোসাইন, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মন্টু এবং সাংবাদিক শাহ আলম ভূঁইয়া। প্রত্যেকেই তানভীরের কৃতিত্বে মুগ্ধ হয়ে দোয়া করেন এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান বুলবুলি জানান, 'তানভীর ছিল অত্যন্ত শান্ত ও মনোযোগী। তার মুখস্থ ছিল নিখুঁত ও নির্ভুল। আমরা অনেক ছেলেকে হাফেজ বানিয়েছি, কিন্তু এমন সময়ে হিফজ সম্পন্ন করা সত্যিই বিরল।'
তিনি আরও জানান, এই মাদ্রাসা থেকেই অতীতে মাত্র ৪ মাসে এক শিক্ষার্থী হাফেজ হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পেছনে রয়েছে মেধাবী ছাত্র, নিবেদিত শিক্ষক এবং সচেতন অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
এই ছবক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রতিটি ছাত্রের মুখে ছিল আত্মবিশ্বাস, আর অভিভাবকদের চোখে ছিল আনন্দের অশ্রু। অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠেছিল এক আবেগঘন মুহূর্তের সারি, যেখানে পবিত্র কোরআনের আলোয় উদ্ভাসিত হচ্ছিল গোটা মিলনায়তন।
তানভীরের এই অর্জন সমাজকে মনে করিয়ে দেয়— 'পরিবার যত সাধারণই হোক না কেন, যদি স্বপ্ন হয় পবিত্র এবং প্রচেষ্টা হয় নিষ্ঠার, তাহলে সফলতা শুধুই সময়ের ব্যাপার।'
আজ ছায়েদুজ্জামান তানভীর শুধু তার বাবা-মার নয়, শাহরাস্তি উপজেলার গর্ব। তার এই অনন্য অর্জন নিঃসন্দেহে একটি দৃষ্টান্ত—যা দেশের হাজারো শিশু ও অভিভাবকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
আরও পড়ুন:







